হেলথ ডেস্ক: প্রেগন্যান্সি বা মাতৃত্বের সফরটি আনন্দের হলেও, অনেক সময় অসতর্কতায় এতে দানা বাঁধে নানা জটিলতা। হরমোনের পরিবর্তন আর অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেক হবু মা ওবেসিটি বা স্থূলতার শিকার হন। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ ওজন বৃদ্ধি মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মা ও অনাগত সন্তান—উভয়পক্ষের জন্যই এক বড় বিপদের ফাঁদ।
কেন এই বাড়তি ওজন চিন্তার কারণ?
গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু তা যখন ওবেসিটির পর্যায়ে চলে যায়, তখন শরীরে বাসা বাঁধতে পারে একাধিক কঠিন রোগ। নিচে এর প্রধান ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হলো:
জেস্টেশনাল ডায়াবিটিস: অতিরিক্ত ওজনের কারণে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে মা ও শিশু উভয়েরই ক্ষতি করে।
উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের ঝুঁকি: ওবেসিটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ: স্থূলতার কারণে প্রসবের পর মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (PPH) হতে পারে, যা মায়ের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি এটি ‘ডিপ ভেইন থ্রমবোসিস’-এর মতো সমস্যারও কারণ হতে পারে।
অনাগত সন্তানের ওপর প্রভাব
মায়ের ওবেসিটি শুধু নিজের নয়, সন্তানের ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়:
ম্যাক্রোসোমিয়া: শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে বড় আকারে জন্ম নিতে পারে, যা নরমাল ডেলিভারির পথ বন্ধ করে দেয়।
স্টিলবার্থের আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃত্বকালীন ওবেসিটি গর্ভস্থ শিশুর অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
শৈশবকালীন ওবেসিটি ও টাইপ ২ ডায়াবিটিস: মায়ের মেটাবলিক সমস্যার প্রভাব শিশুর ওপর পড়ে। ফলে জন্মের পর থেকেই শিশু ওবেসিটি বা ডায়াবিটিসের ঝুঁকিতে থাকে।
প্রতিকারের উপায়
বাইরের ভাজাভুজি ও অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর ও সুষম খাবার ডায়েটে রাখুন।
নিয়মিত ওজন পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম করুন।
সতর্কবার্তা: এই প্রতিবেদনটি কেবল সচেতনতার জন্য। গর্ভাবস্থায় যেকোনো ডায়েট বা শরীরচর্চা শুরুর আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।










