Home সারাদেশ দিনাজপুরের দুই ‘কেশবতী’ রাজকন্যা: কুদরতের কারিশমা নাকি বিজ্ঞানের বিস্ময়?

দিনাজপুরের দুই ‘কেশবতী’ রাজকন্যা: কুদরতের কারিশমা নাকি বিজ্ঞানের বিস্ময়?

ছবি ফেসবুক থেকে নেয়া
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, দিনাজপুর: সদ্যোজাত শিশুর কান্না নয়, বরং তার মাথার একরাশ ঘন কালো চুল দেখে চমকে উঠলেন অপারেশন থিয়েটারের ডাক্তার আর নার্সরা। সাধারণত নবজাতকরা সামান্য চুল বা প্রায় টেকো মাথা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও দিনাজপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া জমজ দুই কন্যাশিশু পাল্টে দিয়েছে চিরচেনা সেই দৃশ্য। তাদের পিঠ ছুঁইছুঁই ঘন কালো রেশমি চুল দেখে মনে হচ্ছে, কোনো রূপকথার রাজ্য থেকে ডানা কাটা দুই পরি নেমে এসেছে মর্ত্যে।
হাসপাতালে আনন্দের জোয়ার
গত কয়েকদিন ধরে দিনাজপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই দুই শিশু। হাসপাতালের কেবিনে তাদের একনজর দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। নার্সদের মধ্যে চলছে মিষ্টি প্রতিযোগিতা—কে আগে কোলে নিয়ে এই ‘কেশবতী’ রাজকন্যাদের চুল আঁচড়ে দেবে! শিশুদের মা-বাবা এই প্রাপ্তিকে দেখছেন সৃষ্টিকর্তার বিশেষ উপহার হিসেবে। তবে এই ঘটনা কি শুধুই অলৌকিক, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের কোনো বিশেষ রহস্য?
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু দুটির এবং মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। অতিরিক্ত চুল হওয়ার পেছনে মায়ের শরীরে এন্ডোজেনএস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাব এবং জেনেটিক কারণই প্রধান। এটি বিরল হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে কোনো রোগ বা অস্বাভাবিকতা বলা হয় না।
বিজ্ঞানের চোখে ‘বর্ন উইথ হেয়ার’
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, নবজাতকের মাথায় এমন ঘন চুল থাকা বিরল হলেও এর পেছনে তিনটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:
১. হরমোনের প্রভাব (Hormonal Surge): গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে উচ্চমাত্রায় এস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে চুলের ফলিকলগুলোকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে, ফলে গর্ভেই চুলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। ২. জেনেটিক্স বা বংশগতি: গবেষকদের মতে, এটি মূলত ডিএনএ-র খেলা। যদি বাবা-মায়ের বংশে ঘন চুলের জিন থাকে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রকট হতে পারে। যমজ হওয়ার কারণে দুই শিশুর জিনগত গঠন একই হওয়ায় দুজনেরই এমন রাজকীয় চুল দেখা গেছে। ৩. টার্মিনাল হেয়ার রিটেনশন: সাধারণত গর্ভের পাঁচ মাসে শিশুদের শরীরে যে পশম (Lanugo) গজায় তা জন্মের আগেই ঝরে যায়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তা না ঝরে বরং শক্ত চুলে রূপান্তরিত হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘টার্মিনাল হেয়ার’ বলা হয়।
বিশ্বজুড়ে এমন আরও ‘ওয়ান্ডার বেবি’
 এই যমজ শিশুদের মতো ঘটনা আগেও বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে:
জাপানের বেবি চানকো: ২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া এই শিশুটি তার কেশবিন্যাসের জন্য এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, মাত্র এক বছর বয়সে সে বিশ্বখ্যাত শ্যাম্পু ব্র্যান্ড ‘প্যানটিন’-এর মডেল হয়।
ভারতের নিথারা ভিগনেশ: মাত্র ৮ মাস বয়সে সাড়ে ১৬ ইঞ্চি লম্বা চুল নিয়ে এই শিশুটি ২০২৪ সালে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।
স্কটল্যান্ডের লিয়ানা: গত বছর জন্ম নেওয়া এই শিশুটির চুল এতোটাই ঘন যে তার মা তাকে প্রতিদিন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে দিতে বাধ্য হন।
প্রকৃতি মাঝে মাঝে আমাদের এমন সব বিস্ময় উপহার দেয় যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। রংপুরের এই দুই শিশু আজ কেবল তাদের পরিবারের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের আনন্দের উৎস। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা যাই হোক, এক জোড়া ফুটফুটে শিশুর এই মায়াবী রূপ যে কারো মন ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

businesstoday24.com-এর সাথেই থাকুন। সমসাময়িক খবরের আপডেট এবং এরকম আরও রোমাঞ্চকর ফিচার পড়তে আমাদের ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে শেয়ার করুন।