আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ এবং পাচারচক্রের মাধ্যমে তার কিডনি কেড়ে নেওয়ার এক বীভৎস ঘটনা ঘটেছে লাহোরের চুং (Chuhng) এলাকায়।
এফআইআর (FIR) সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে অভিযুক্তরা ওই নারীকে একটি আকর্ষণীয় চাকরির টোপ দেয়। প্রলোভনে পা দিলে তাকে অপহরণ করে রাওয়ালপিন্ডিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি নির্জন বাড়িতে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশবিক নির্যাতন ও অঙ্গহানি
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, আটকে থাকা অবস্থায় তাকে একাধিকবার গণধর্ষণ করা হয়। তবে ভয়াবহতা এখানেই শেষ হয়নি। পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে এবং ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে ধরা পড়ে যে, তার শরীরের বাম পাশের কিডনিটি নেই। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞান করে বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অবৈধভাবে তার কিডনি অপসারণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও উচ্চ মহলের নির্দেশ
এই পৈশাচিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পাঞ্জাব নারী সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (Women Protection Authority) চেয়ারপারসন হিনা পারভেজ বাট বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন।
তিনি ডিআইজি অপারেশনস লাহোরের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন তলব করেছেন।
জড়িত সকল অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিনা পারভেজ বাট ঘোষণা করেছেন যে, ভুক্তভোগী নারীকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা, উন্নত চিকিৎসা এবং মানসিক কাউন্সিলিং প্রদান করা হবে।
পুলিশ বর্তমানে অপহরণ এবং অবৈধভাবে অঙ্গ অপসারণের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নাকি কোনো বড় ধরণের অঙ্গ পাচারকারী চক্রের কাজ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।