মেডিসিনাল সারভেইল্যান্স বা ঔষধি নজরদারি প্রতিবেদনে কৃষি পণ্যে মানুষের ব্যবহৃত ওষুধের অবশিষ্টাংশ পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। শহরের বর্জ্য পানি শোধন করে কৃষিকাজে ব্যবহারের ফলে শাকসবজিতে মিশছে এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট ও সিজার ড্রাগ। গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদের টিস্যু মাটি থেকে এসব রাসায়নিক শোষণ করে সরাসরি মানুষের খাদ্যচক্রে পৌঁছে দিচ্ছে। ২০২৬ সালের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নতুন ও জটিল উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক নিবিড় ‘মেডিসিনাল সারভেইল্যান্স’ বা ঔষধি নজরদারি প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক নতুন সংকটের কথা জানানো হয়েছে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত শোধিত বর্জ্য পানির মাধ্যমে মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা ডায়েটরি প্ল্যান্ট বা শাকসবজিতে এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট (বিষণ্ণতা নিরোধক) এবং সিজার ড্রাগের (মৃগীরোগের ওষুধ) মতো শক্তিশালী ওষুধের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থা জীবন রক্ষাকারী ওষুধের রাসায়নিক কণাকে পুরোপুরি নির্মূল করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় বড় শহর থেকে নির্গত নর্দমার পানিতে মানুষের সেবন করা ওষুধের অবশিষ্টাংশ মিশে থাকে। এই পানি যখন কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য শোধন করা হয়, তখন তার মাইক্রো-লেভেলে এসব ড্রাগের অস্তিত্ব থেকে যায়। গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে, লেটুস, পালং শাক এবং বিভিন্ন মূলজাতীয় সবজি এই শোধিত পানি থেকে সরাসরি কার্বামাজেপাইন (মৃগীরোগের ওষুধ) এবং ফ্লুওক্সেটাইনের (এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট) মতো উপাদান শোষণ করে নিজেদের টিস্যুতে জমা করে রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখছেন। কারণ, সাধারণ রান্নার তাপমাত্রায় এসব ওষুধের অবশিষ্টাংশ নষ্ট হয় না। ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে এই ক্ষুদ্রাকৃতির ওষুধের ডোজ গ্রহণ করছে, যা ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো শরীরকে ওষুধের প্রতি সংবেদনহীন করে তুলতে পারে। এই সংকট নিরসনে কৃষি ক্ষেত্রে পানির উৎস পুনঃমূল্যায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওয়াটার ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে businesstoday24.com ফলো করুন ।