Home অন্যান্য পুরান ঢাকার ঈদ: মোগলাই আভিজাত্য আর ঢাকাইয়া ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

পুরান ঢাকার ঈদ: মোগলাই আভিজাত্য আর ঢাকাইয়া ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

ফরিদুল আলম, ঢাকা: পুরান ঢাকার আদি বাসিন্দাদের ঈদ উৎসব মানেই ঐতিহ্য, আতিথেয়তা আর রাজকীয় আমেজ। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই উৎসবের প্রতিটি পরতেই লুকিয়ে আছে মুঘল আমলের আভিজাত্য এবং ঢাকাইয়া সংস্কৃতির বিশেষ ছাপ।
সকালের আমেজ ও ঈদের নামাজ: ঈদের দিন সকালে আতর মেখে, নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি আর টুপি পরে দলবেঁধে ঈদগাহে যাওয়া এখানকার দীর্ঘদিনের রীতি। চকবাজারের শাহী মসজিদ বা তারা মসজিদে ঈদের বড় জামাতগুলো হয়। নামাজ শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলি করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো ঢাকাইয়াদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
খাবারের রাজকীয় আয়োজন
পুরান ঢাকার ঈদ মানেই ভোজনরসিকদের স্বর্গরাজ্য। তাদের দস্তরখানের আয়োজনে থাকে বিশেষত্ব:
সকালে দুধ-সেমাইয়ের সাথে বিভিন্ন পদের মিষ্টান্ন এবং স্থানীয় বখ্খরখানি দিয়ে নাস্তা শুরু হয়। দুপুরের মেনুতে থাকে কাচ্চি বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও, খাসির রেজালা এবং জালি কাবাব। সাথে থাকে বোরহানি ও জর্দা। তারা নিজেরা খাওয়ার চেয়ে অতিথি খাওয়াতে বেশি পছন্দ করেন। অনেক বাড়িতেই দেখা যায় যে কেউ এলে তাকে বিরিয়ানি বা পোলাও না খাইয়ে ছাড়েন না।

পোশাক ও সাজসজ্জা

পুরান ঢাকার নারীদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পোশাক যেমন কাতান বা জামদানি শাড়ির প্রচলন বেশি। হাতে মেহেদি পরা এবং বাড়ির ছোটদের মধ্যে নতুন জামা নিয়ে যে উৎসাহ থাকে, তা দেখার মতো। অনেক আদি বাসিন্দা ঈদের দিনগুলোতে রঙিন লুঙ্গি ও ফতুয়াও পরে থাকেন, যা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়।
উৎসবের পরিবেশ ও বিনোদন
চাঁদ রাত: ঈদের আগের রাতে অর্থাৎ চাঁদ রাতে পুরান ঢাকার অলিগলি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। আতশবাজি আর পটকা ফোটানোর শব্দে আকাশ মুখরিত থাকে।
আড্ডা ও মেলা: ঈদের বিকেলে এলাকার মোড়ে মোড়ে আড্ডা জমে। বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো মেলা বসে, যেখানে নাগরদোলা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান থাকে।
ঘুড়ি ওড়ানো: অনেক সময় ঈদের বিকেলে বাসার ছাদে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতাও দেখা যায়।
পুরান ঢাকার ঈদের আনন্দ শুধু নিজের পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পুরো মহল্লা যেন এক বড় পরিবারে পরিণত হয়।