Home First Lead ১০ দিনেই রডের দাম টনে বাড়ল ১০ হাজার, সিমেন্টেও অস্থিরতা

১০ দিনেই রডের দাম টনে বাড়ল ১০ হাজার, সিমেন্টেও অস্থিরতা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:

নির্মাণাধীন বাড়ির স্বপ্ন এখন মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার উপক্রম। রাজধানীর নয়াবাজার, ইংলিশ রোড ও উত্তরার রড-সিমেন্টের আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে গত ১০ দিনে নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মাত্র দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। পিছিয়ে নেই সিমেন্টও; বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
রডের বাজারে আগুনের হলকা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের (৭২ গ্রেড) রড যা ১০ দিন আগে টনপ্রতি ৯২-৯৩ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ১ লাখ ২ হাজার থেকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন দর পাঠানো হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতাদের কন্ঠে অসহায়ত্ব নয়াবাজারের এক রড বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকালে এক দাম থাকে তো বিকেলে আরেক দাম। কোম্পানি রেট বাড়ালে আমাদের কিছু করার থাকে না। কাস্টমার এসে দাম শুনে ফিরে যাচ্ছে, বিক্রি অর্ধেক নেমে গেছে। অনেক ক্রেতা মাঝপথে কাজ বন্ধ করে রাখছেন কারণ বাজেটে মিলছে না।”
উত্তরার একজন ডিলার জানান, “আগে মানুষ এক ট্রাক রডের অর্ডার দিত, এখন সেই মানুষই কয়েক বান্ডেল করে রড নিয়ে কাজ সারার চেষ্টা করছে। বড় ডিলারদের কাছ থেকে মাল চাইলেই তারা ‘নাই’ বলছে, অথচ দাম বাড়লে আবার মাল পাওয়া যাচ্ছে।”
সিমেন্টের দমেও টান রডের সমান্তরালে বাড়ছে সিমেন্টের দামও। কোম্পানিভেদে ৪৫০-৪৮০ টাকার সিমেন্ট এখন ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায় ঠেকেছে। গত এক সপ্তাহে বস্তাপ্রতি ২০-২৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরাও হিমশিম খাচ্ছেন।
অস্থিরতার নেপথ্যে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির শিকড় লুকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে স্ক্র্যাপ লোহা ও ক্লিংকারের (সিমেন্টের কাঁচামাল) দাম এবং জাহাজ ভাড়া—উভয়ই বেড়েছে। আমদানিকৃত কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছানো এবং এলসি জটিলতার প্রভাবে স্থানীয় বাজারে এর নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটছে।
সরেজমিন চিত্র ও আশঙ্কা নির্মাণ সামগ্রীর এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি আবাসন খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা নিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট রোধে এখনই বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। না হলে সাধারণ মানুষের ‘নিজের এক টুকরো মাথা গোঁজার ঠাঁই’ গড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।