রামেশ ভট্টরায়, কাঠমান্ডু : নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৭ মার্চ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে, এদিনই দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র তথা আরএসপি-র সিনিয়র নেতা বালেন্দ্র শাহ।
বিশাল জনমত ও নির্বাচনী ফলাফল
গত ৫ মার্চের নির্বাচনে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে চার বছরের কনিষ্ঠ দল আরএসপি। দলটি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল করে দেশের বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হয়েছে। মোট ১৮২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি সরাসরি (FPTP) এবং ৫৭টি আনুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে জয়লাভ করেছে তারা। নির্বাচনের আগেই দলটি বালেন্দ্র শাহকে তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
দলীয় সূত্রমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর দলের চেয়ারম্যান রবি লামিছানে এবং বালেন্দ্র শাহের মধ্যে একটি সাত দফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, রবি লামিছানে দলের নেতৃত্বে থাকবেন এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বালেন্দ্র শাহ সরকারের নেতৃত্ব দেবেন।
মন্ত্রিসভার আকার ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
আরএসপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিল যে, তাদের মন্ত্রিসভা ১৮ সদস্যের বেশি হবে না। উল্লেখ্য, নেপালের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ জন সদস্য নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের সুযোগ থাকলেও দল ছোট ও কার্যকর মন্ত্রিসভার পথেই হাঁটছে।
নেপালের সংবিধানের ৭৬ (১) ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল বালেন্দ্র শাহকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে তার আগে আরএসপি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে শাহকে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে।
সংসদ সচিবালয়ের মুখপাত্র একরাম গিরি জানিয়েছেন, আগামী ২৬ মার্চ দুপুর ২টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আরএসপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো বিতর্ক এড়াতে তারা সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরই সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবে।
ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে কেপি শর্মা ওলির শপথের আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, আরএসপি তার পুনরাবৃত্তি চায় না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবি লামিছানে, বালেন্দ্র শাহ, ডল প্রসাদ আরিয়াল এবং স্বর্ণিম ওয়াগলের উপস্থিতিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকার গঠনের এই চূড়ান্ত রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক কবিন্দ্র বুরলাকোটি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠক মূলত নির্বাচন পর্যালোচনা এবং সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আইন উপদেষ্টা বাবুরাম কুনওয়ার জানিয়েছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দাবি উত্থাপন করলে রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় আরএসপি সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে প্রস্তুত আছেন।