Home Second Lead ঢেউ খেলানো টিনের বাজারে প্রতারণা

ঢেউ খেলানো টিনের বাজারে প্রতারণা

আপনি কি সঠিক পুরুত্ব ও জিঙ্ক কোটিং পাচ্ছেন?

সিরিজ প্রতিবেদন

পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই
কামরুল হাসান 
একটি সাধারণ পরিবারের সারা জীবনের স্বপ্ন থাকে একটি মজবুত টিনের ঘর। কিন্তু সেই স্বপ্নে সিঁধ কাটে অসাধু টিন ব্যবসায়ীরা। চকচকে টিন দেখে আমরা মনে করি এটি অনেক বছর টিকবে, কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই তাতে জং (মরিচা) ধরে ছিদ্র হয়ে যায়। এর কারণ হলো টিনের পুরুত্ব এবং দস্তার প্রলেপ (Zinc Coating) নিয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি। বেশি পুরুত্বের দাম দিয়ে আপনি হয়তো কিনছেন অনেক পাতলা টিন, যা আপনার ঘরকে ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকিতে ফেলছে।
বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে ঢেউইটিনের বাজারে কিছু চতুর জালিয়াতি বেরিয়ে এসেছে।
দোকানে যেভাবে চলে ‘ধাতব’ জালিয়াতি
১. পুরুত্ব বা এমএম (mm) কারসাজি: টিনের গুণমান নির্ভর করে এর পুরুত্বের ওপর (যেমন- ০.৩৬ মিমি, ০.৪২ মিমি বা ০.৪৭ মিমি)। অসাধু ব্যবসায়ীরা কম পুরুত্বের টিনের ওপর বেশি পুরুত্বের সিল জালিয়াতি করে মেরে দেয়। খালি চোখে ০.৩৬ আর ০.৪২-এর পার্থক্য বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব, কিন্তু দামে এটি বিশাল পার্থক্য তৈরি করে।
২. ওজন ও বান্ডিল জালিয়াতি: টিন সাধারণত ‘বান’ বা বান্ডিল হিসেবে বিক্রি হয়। এক বান্ডিলে নির্দিষ্ট সংখ্যক ও নির্দিষ্ট ওজনের টিন থাকার কথা। কিন্তু অনেক দোকানদার বান্ডিল থেকে একটি বা দুটি টিন সরিয়ে রাখে অথবা হালকা ওজনের টিন দিয়ে বান্ডিল তৈরি করে। ফলে আপনি টাকা দিচ্ছেন বেশি ওজনের, কিন্তু পাচ্ছেন অনেক কম।
৩. জিঙ্ক কোটিং বা দস্তার প্রলেপে ফাঁকি: টিনকে মরিচা থেকে বাঁচাতে এর ওপর দস্তার প্রলেপ দেওয়া হয়। দস্তার প্রলেপ যত বেশি হবে, টিন তত বেশি বছর টেকসই হবে। জালিয়াতি করা টিনে দস্তার প্রলেপ একদম পাতলা থাকে, ফলে অল্প লবণাক্ত বাতাস বা বৃষ্টির পানিতেই টিনে দ্রুত জং ধরে যায়।
৪. ব্র্যান্ডের নকল সিল: নামী ও স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের (যেমন- আবুল খায়ের বা পিএইচপি) লোগো ও সিল নকল করে সাধারণ বা লোকাল টিনের ওপর লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আপনি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির দাম দিয়ে কিনছেন সস্তা গ্রেডের টিন।
ঢেউটিন কেনার সময় প্রতারণা এড়াতে যা করবেন:
ডিজিটাল স্লাইড ক্যালিপার্স (Digital Slide Calipers) ব্যবহার: টিন কেনার সময় সাথে করে একটি স্লাইড ক্যালিপার্স নিয়ে যান অথবা দোকানদারের কাছে চান। এটি দিয়ে টিনের ধারের পুরুত্ব মেপে দেখুন সিলে লেখা মাপের সাথে মিল আছে কি না।
ওজন মেপে নিন: কেবল বান্ডিল গুনে টিন নেবেন না। ওজন মেশিনে টিনের বান্ডিলটি তুলে দেখুন সেটির মোট ওজন কত। ওজনে বড় ধরণের পার্থক্য থাকলে সেই টিন নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সিলের মান পরীক্ষা: অরিজিনাল ব্র্যান্ডের সিল সাধারণত লেজার দিয়ে বা নিখুঁতভাবে খোদাই করা থাকে। যদি সিলটি অস্পষ্ট, হাতে লেগে যায় বা আলগা মনে হয়, তবে বুঝবেন এটি নকল সিল।
পাকা মেমো বা ইনভয়েস: রিসিটে কেবল ‘এক বান্ডিল টিন’ না লিখে কত এমএম (mm) এবং কত ওজন, তা স্পষ্টভাবে লেখান। এতে পরবর্তীকালে জং ধরলে বা সমস্যা হলে আপনি আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
ঘর মানেই নিরাপত্তা। কম দামে টিন পাওয়ার লোভে পড়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলবেন না। বড় ধরণের প্রতারণার শিকার হলে সরাসরি ভোক্তা অধিকারের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন।