বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশে গত কয়েক সপ্তাহে হামের সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।
চলতি বছরের শুরু থেকেই হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে।
শুরু ও বিস্তার: ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়। এরপর দ্রুতই রাজধানীর বস্তি এলাকাগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
হটস্পট: বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, পাবনা এবং চট্টগ্রামে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে রাজশাহীতে আইসিইউ সংকটে বেশ কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আক্রান্তের বয়স: স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, মূলত ৯ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে।
দুর্ভোগ ও চিকিৎসা সংকট: রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি শয্যায় একের অধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সময়মতো টিকা না পাওয়ায় আজ তাদের এই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা না থাকায় শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
টিকা সংকটের কারণ ও সরকারি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিবার এক অনুষ্ঠানে জানান, দেশে গত আট বছর ধরে হামের নিয়মিত টিকাদান বা বিশেষ ক্যাম্পেইন কর্মসূচি অনেকটা স্থবির ছিল। ফলে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ইতোমধ্যে পারচেজ কমিটি (ক্রয় কমিটি) এর অনুমোদন দিয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে টিকা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জরুরি চিকিৎসা: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৫টি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে, যার ৪টি আজ সেখানে পাঠানো হবে। এছাড়া ঢাকার ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালকেও হামের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সরকার দ্রুতই একটি ‘ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন’ শুরু করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
সতর্কতা: আপনার শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।