সোমালীয় জলদস্যুরা আবারও ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর এলাকায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক নৌ-বাহিনীর টহল উপেক্ষা করেই একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজ নিজেদের জিম্মায় নিচ্ছে তারা। সর্বশেষ গতকাল শনিবার (২ মে, ২০২৬) ইয়েমেনের শাবওয়া উপকূল থেকে টোগোর পতাকাবাহী অয়েল ট্যাঙ্কার ‘এম/টি ইউরেকা’ ছিনতাইয়ের মাধ্যমে গত এক সপ্তাহে চতুর্থবারের মতো সফল বড় কোনো আক্রমণ চালালো তারা।
এক সপ্তাহে দস্যুতার কালো থাবা
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে জলদস্যুরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তিনটি বড় জাহাজ ছিনতাই করেছে। গতকালের ঘটনার আগে গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তারা সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি সোয়ার্ড’ ছিনতাই করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর ঠিক এক দিন আগেই একটি ‘ধো’ (Dhow) বা ঐতিহ্যবাহী মালবাহী নৌকা জিম্মি করেছিল দস্যুরা।
পূর্বের ঘটনা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এর ঠিক আগেই গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্কার ‘অনার ২৫’ (Honour 25) ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, যা এর আগেই বিজনেসটুডে২৪-এ বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ছিনতাই হওয়া পালাউ-এর পতাকাবাহী ওই ট্যাঙ্কারটি ১৮ হাজার ব্যারেল তেল এবং ১৭ জন ক্রুসহ বর্তমানে সোমালিয়ার হাফুন ও বান্দর বেইলা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে জলদস্যুদের কড়া পাহাড়ায় রয়েছে।
বিপাকে বিশ্ব নৌ-বাণিজ্য
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-বাহিনীর ট্র্যাকিং সার্ভিস ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার ইন্ডিয়ান ওশান’ (MSCIO) সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিটি ছিনতাইয়ের ঘটনাই বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং দস্যুরা জাহাজগুলোকে সোমালিয়া উপকূলের নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে গেছে। সংস্থাটি মোপাদিশু থেকে হাফুন পর্যন্ত সোমালি উপকূলের ১৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে চলাচলকারী সব জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি জাহাজ ছিনতাইয়ের এই ঘটনা হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে জলদস্যুতার ভয়াবহ পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশ্ব শিপিং শিল্পের জন্য নতুন এক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।