কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: ভোটের ফলাফল ঘিরে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল নির্বাচনে হারেনি, বরং ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে জোড়াফুল শিবির।
রাজভবন নয়, রাজপথ ও আদালতেই ফয়সালা
এদিন বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, তিনি কোনো অবস্থাতেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না। তার দাবি, তথ্য-প্রমাণ লোপাট করে জোরপূর্বক জয়ের দাবি করছে প্রতিপক্ষ।
মমতা বলেন, “আমি কেন রাজভবন যাব? আমরা তো হারিনি। ইস্তফার প্রশ্নই ওঠে না। সব তথ্য-প্রমাণ আমার কাছে রক্ষিত আছে।” নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আগামী সপ্তাহের কর্মসূচি: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম
দলের অন্দরের সমীকরণ বুঝে নিতে এবং মাঠপর্যায়ে ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহেই ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দলের ফল আশানুরূপ হয়নি, সেখানে অন্তর্ঘাত হয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তার বার্তা, “যারা অন্তর্ঘাত করেছে তাদের নাম জমা দিন। দল ঘুরে দাঁড়াবেই।”
বিজেপির শপথ ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর
বিজেপির শপথ গ্রহণের দিনটিকে কেন্দ্র করে এক অভিনব প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকতালীয়ভাবে ওই দিনটি রবীন্দ্র জয়ন্তী হওয়ায়, প্রতিটি দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির ‘উগ্র’ রাজনীতির বিপরীতে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে হাতিয়ার করেই এই প্রতিবাদের কৌশল নিয়েছেন নেত্রী।
পাশে আছেন অভিষেক
ব্যক্তিগত ও দলীয় অবস্থান নিয়ে গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি দলের সঙ্গেই আছেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল দেখবেন। আমি আগেও ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি আরও জানান, যেখানে সরাসরি অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না, সেখানে অনলাইনে অভিযোগ জানাতে।
এদিনের বৈঠকে ৬৯ জন নবনির্বাচিত বিধায়ক উপস্থিত থাকলেও ১১ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ইন্দ্রনীল সেনের মতো পরাজিত প্রার্থীদের উপস্থিতিতে দল যে সংহতির বার্তা দিতে চাইছে, তা স্পষ্ট।