Home First Lead মহাপরিকল্পনায় আনোয়ারা রেলপথ: বদলে যাবে বাণিজ্যিক দৃশ্যপট

মহাপরিকল্পনায় আনোয়ারা রেলপথ: বদলে যাবে বাণিজ্যিক দৃশ্যপট

কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: আনোয়ারায় গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পটিয়া-আনোয়ারা রেলপথ এখন আর কেবল একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিকল্পনায় থাকা এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে তা এই অঞ্চলের ভারী শিল্পায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

 রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, তাদের হালনাগাদ মহাপরিকল্পনায় (Railway Master Plan) পটিয়া থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত এই নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের সুপারিশটি সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটিকে দীর্ঘমেয়াদী বা পরবর্তী ধাপের (সাধারণত ৪র্থ বা ৫ম পর্যায়) অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বর্তমানের দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একে এগিয়ে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। এই মহাপরিকল্পিত রেলপথটি বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারা সরাসরি পটিয়া জংশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর এবং জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, কর্ণফুলী টানেল দ্রুত সড়ক যাতায়াতের পথ প্রশস্ত করলেও ভারী শিল্পের লজিস্টিকস এবং বিশাল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলপথের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। টানেল মূলত দ্রুত যাতায়াত ও হালকা পণ্য পরিবহনের জন্য আদর্শ, কিন্তু সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তুলতে পটিয়া-আনোয়ারা রেল সংযোগের কোনো বিকল্প নেই।

আনোয়ারায় অবস্থিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উৎপাদিত হাজার হাজার টন পণ্য সড়কপথে পরিবহন করা কেবল ব্যয়বহুলই নয়, বরং তা টানেল ও সংযোগ সড়কগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। একটি মালবাহী ট্রেন একবারে কয়েকশ ট্রাকের সমপরিমাণ পণ্য বহন করতে সক্ষম, যা পরিবহন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনবে। এই সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থাই বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পটিয়া-আনোয়ারা রেলপথ নির্মিত হলে শিল্পাঞ্চলগুলো সরাসরি দেশের প্রধান রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, সড়কের স্থায়িত্ব বাড়বে এবং পরিবেশ দূষণ কমবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর পূর্ণোদ্যমে চালু হলে এই রেলপথটির গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে, কারণ তখন আনোয়ারা হবে বন্দর সংলগ্ন প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র।

নীতি-নির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, ২০৪০ সালের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অপেক্ষায় না থেকে এই প্রকল্পটিকে দ্রুত অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। পটিয়া-আনোয়ারা রেলপথ হবে সেই ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে আগামীর সমৃদ্ধ ও আধুনিক চট্টগ্রাম।


ভিজিট করুন www.businesstoday24.com এবং আপনার মূল্যবান মতামত দিন।