Home Second Lead ব্যাংক খাতে মুনাফার মহোৎসব: কোন পথে পুঁজিবাজার?

ব্যাংক খাতে মুনাফার মহোৎসব: কোন পথে পুঁজিবাজার?

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতার মধ্যেও ২০২৫ সালে এক অভাবনীয় সাফল্যের গল্প লিখেছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২১টির মুনাফাই বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংকসহ অন্তত ১০টি ব্যাংক তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
আর্থিক খাতের এই অকল্পনীয় সাফল্য পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের যে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা মূলত সাময়িক আস্থার সংকট। কিন্তু বাস্তব আর্থিক সক্ষমতার বিচারে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর শেয়ার এখন বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং যৌক্তিক অবস্থানে রয়েছে।
কেন ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ এখন লাভজনক?
১. আয়ের নিরাপদ ও শক্তিশালী উৎস
ব্যাংকগুলোর এই রেকর্ড মুনাফার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ। ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ ব্যবসায়িক মডেল, যা ব্যাংকের আয়ের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
২. শীর্ষ ব্যাংকগুলোর অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি
২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে একক বছরের রেকর্ড গড়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৭ শতাংশ বেশি। সিটি ব্যাংকের মুনাফা ৩১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। প্রথমবারের মতো হাজার কোটির ক্লাবে ঢুকেছে পূবালী ব্যাংক (১ হাজার ৯০ কোটি টাকা)। এছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং এনসিসি ব্যাংকও রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে।
৩. অবমূল্যায়িত শেয়ার দর
রেকর্ড মুনাফা সত্ত্বেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অহেতুক ভয়ের কারণে অনেক ভালো ব্যাংকের শেয়ার দর বর্তমানে অনেক নিচে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যখনই বাজার তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠবে, এই শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারগুলোর দাম দ্রুত বাড়বে। কম দামে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির শেয়ার কেনার এটাই উপযুক্ত সময়।
সুশাসন ও আস্থার পথে পরিবর্তন: যদিও বর্তমানে ২০টি ব্যাংক কিছুটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, তবে ব্র্যাক, সিটি, উত্তরা বা এনসিসি ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করেছে যে সঠিক ব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ কমিয়ে মুনাফা বাড়ানো সম্ভব। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতিমালা ও সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগের ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যাংকগুলো আরও স্থিতিশীল হবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, ‘জেড’ ক্যাটাগরির ব্যাংকগুলো এড়িয়ে চলে শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদন থাকা ব্যাংকগুলোতে নজর দেওয়া। ব্যাংকিং খাতের এই অভাবনীয় মুনাফা ও সরকারি বন্ডের নিরাপদ আয় মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com