সিলেটে নগরনাটের পথনাটক ‘রেফারি’ প্রদর্শিত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: দেশে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, এসব ঘটনার সিংহভাগই থেকে যাচ্ছে প্রতিকারহীন। কোনো একটি নৃশংস ঘটনার পর শুরুতে কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়, এরপর একসময় সবকিছু আবার থিতিয়ে যায়। জনরোষের মুখে সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলেও, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার বেড়াজালে পড়ে অপরাধীর শাস্তি কার্যকর হওয়ার নজির মেলা ভার। ফলে ফি-বছর কেবল দীর্ঘ হতে থাকে ভুক্তভোগীদের তালিকা। সাম্প্রতিক সময়ে চার বছরের শিশুকন্যা ফাহিমা কিংবা সাত বছরের শিশুকন্যা রামিসার মতো অসংখ্য নাম যুক্ত হয়েছে এই বিচারহীনতার দীর্ঘ মিছিলে।
দেশ যখন এমন এক বিচারহীনতার ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই থিয়েটারের শক্তিতে প্রতিবাদের ডাক দিল সিলেটের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নগরনাট’। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংগঠনটি পরিবেশন করল ব্যতিক্রমী এক পথনাটক ‘রেফারি’।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সুরমা নদীর পাড়ে, কিন ব্রিজ এলাকার ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে এই নারী নিপীড়নবিরোধী পথনাটকটি প্রদর্শিত হয়। প্রয়াত প্রখ্যাত নাট্যকার মান্নান হীরা রচিত এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন অরূপ বাউল। নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন অরূপ বাউল, উজ্জ্বল চক্রবর্তী, সোনিয়া সুভদ্রা প্রমুখ।
সুরমাপাড়ে দ্রোহ ও সংহতির মেলবন্ধন
নাটক, গান আর প্রতিবাদী স্লোগানে সুরমা নদীতীরের পুরো কিনব্রিজ এলাকা যেন রূপ নিয়েছিল এক প্রতিবাদী উদ্যানে। পথনাটক চলাকালীন সময়ে পথচলতি সাধারণ মানুষ থমকে দাঁড়ান। সমাজের এই চেনা নির্মমতার নাট্যরূপ দেখে উপস্থিত অনেকের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে এবং তারা দ্রোহ ও সংহতি জানিয়ে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
প্রদর্শনী চলাকালীন সমাজের প্রতি ‘WHO IS NEXT?’ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে একটি ফেস্টুন টানানো হয়, যার নিচে প্রতীকী দুটি লাশ প্রদর্শন করে ‘নগরনাট’ এক স্তব্ধতার আবহ তৈরি করে।
রূপকের আড়ালে বিচার ব্যবস্থার দিকে আঙুল
মান্নান হীরা রচিত ‘রেফারি’ নাটকে সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া অবিরত নারী নির্যাতন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এখানে ফুটবল খেলার ‘রেফারি’ হিসেবে রূপক অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে—যে রেফারি ফাউল বা অন্যায় দেখেও অনেক সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। নাটকের একপর্যায়ে নির্যাতিতের অভিভাবকের ‘আমি আর বিচার চাই না’—এই তীব্র ক্ষোভ ও আর্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক চরম অবজ্ঞা ও অভিনব প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উপস্থিত দর্শকেরা জানান, এই পথনাটক কেবল বিনোদন নয়, বরং বর্তমান সমাজের এক নির্মম আয়না, যা প্রতিটি নাগরিককে অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর তাগিদ দেয়।
এমন আরও প্রতিবেদন পড়তে businesstoday24.com ফলো করুন।










