আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নাসার আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশনের এই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি মূলত গতকাল এবং আজ মিলিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এটি মানব সভ্যতার মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। নিচে এর বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
নতুন দূরত্ব: ওরিয়ন (Orion) মহাকাশযানে থাকা চার মহাকাশচারী পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২৫২,৭৫৬ মাইল (৪০৬,৭৭১ কিলোমিটার) দূরত্ব অতিক্রম করেছেন।
পূর্বের রেকর্ড: ১৯শে এপ্রিল, ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২৪৮,৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৫৬ বছর পর আর্টেমিস ২ সেই রেকর্ড ভেঙে প্রায় ৪,১১১ মাইল বেশি গভীরে প্রবেশ করেছে।
সময়: গতকাল ৬ এপ্রিল বিকেলে ওরিয়ন মহাকাশযানটি অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড অতিক্রম করে এবং আজ ৭ এপ্রিল এটি চাঁদের কক্ষপথের প্রভাব কাটিয়ে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে।
চাঁদের উল্টো পাশে যা ঘটেছে
১. যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা (Blackout): যখন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পাশে (Far Side) অবস্থান করছিল, তখন প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সাথে সব ধরনের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এই সময় মহাকাশচারীরা সম্পূর্ণ একা ছিলেন। ২. সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান: তারা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৪,০৬৭ মাইল (৬,৫ক৪৫ কিলোমিটার) উপর দিয়ে উড়ে গেছেন। এর আগে কোনো মানুষ চাঁদের এত কাছাকাছি গিয়ে তার উল্টো পিঠ নিজের চোখে দেখার সুযোগ পায়নি। ৩. বিরল সূর্যগ্রহণ: মহাকাশচারীরা মহাকাশ থেকে এক অদ্ভুত দৃশ্য উপভোগ করেছেন—তাদের অবস্থান থেকে সূর্য যখন চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়েছিল, তখন তারা একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। ৪. আর্থরাইজ (Earthrise): চাঁদের দিগন্ত থেকে পৃথিবীর উদয় হওয়ার এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তারা ক্যামেরাবন্দি করেছেন, যা বিজ্ঞানীদের মতে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি হতে যাচ্ছে।
অভিযাত্রী দল
এই মিশনে মোট চারজন মহাকাশচারী রয়েছেন:
- রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার)
- ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট)
- ক্রিস্টিনা কোচ (মিশন স্পেশালিস্ট)
- জেরেমি হ্যানসেন (কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি)









