Home আন্তর্জাতিক দক্ষিণ কোরিয়ায় স্বর্ণ বিনিয়োগে রেকর্ড: মজুত বাড়ল ২৫ শতাংশ

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্বর্ণ বিনিয়োগে রেকর্ড: মজুত বাড়ল ২৫ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের আকাশচুম্বী দাম এবং সংকটের মুখে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্বর্ণ বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত মাসে দেশটির ডোমেস্টিক গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ETF) নেট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪৪.২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৯০ বিলিয়ন কোরিয়ান ওন)। স্বর্ণের বারের (Gold Bar) তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন সহজেই লেনদেনযোগ্য ইটিএফ-এর দিকে ঝুঁকছেন।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, গত মাসে বিশ্বজুড়ে গোল্ড ইটিএফ-এ মোট ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। ৬.৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর ৬.২ বিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চীন। দক্ষিণ কোরিয়া এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও তাদের প্রবৃদ্ধির হার সবাইকে চমকে দিয়েছে।
কোরিয়ান ইটিএফ অপারেটরদের স্বর্ণ মজুত গত মাসে ৫.৫ টনে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের মোট মজুতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩.৮%)। ভারত (১৬.৩%) বা চীনের (১৫.৫%) মতো উদীয়মান বাজারগুলোকে ছাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া গত মাসে স্বর্ণ মজুতের প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বের ১৯টি দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের শেষ দিক থেকে স্বর্ণের বারের সরবরাহ সীমিত হয়ে আসায় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প হিসেবে ইটিএফ বেছে নিচ্ছেন। গত মাসে বড় ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবল পোনগিউপ ব্যাংক ব্যাপকভাবে গোল্ড বার বিক্রি করেছে। অন্যদিকে শিনহান ব্যাংক কেবল ১ কেজির বড় বার বিক্রি সীমিত রেখেছিল। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সরাসরি স্বর্ণ না কিনে শেয়ার বাজারের মতো সহজে কেনাবেচা করা যায় এমন ইটিএফ-এ অর্থ বিনিয়োগ করছেন।
জানুয়ারির শুরুতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৩০০ ডলার থেকে লাফিয়ে ৫,৪০০ ডলারে পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হুলস্থূল পড়ে যায়। যদিও মাঝে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান মনোনয়নের খবরে দাম সাময়িকভাবে ৫,০০০ ডলারের নিচে নেমেছিল, কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আবার বেড়েছে।
জেপি মরগান (JP Morgan) তাদের ২০২৫-২৬ সালের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৬,৩০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এমনকি কিছু বিশেষজ্ঞের মতে এই দাম ৬,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
চাহিদা মেটাতে চলতি মাসে হানা ব্যাংক ও শিনহান ব্যাংক পুনরায় গোল্ড বার বিক্রি শুরু করেছে। ১০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের বার বিক্রির মাধ্যমে তারা বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। তবে ইটিএফ-এর বর্তমান জনপ্রিয়তা আগামী কয়েক মাস বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত জানান এবং নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন ।