Home অপরাজিতা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: প্রতি ৬ জনে আক্রান্ত ১ জন

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: প্রতি ৬ জনে আক্রান্ত ১ জন

স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ WHO-এর
হেলথ ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের সর্বশেষ প্রকাশনায় গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি ৬ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে ১ জন ডায়াবেটিসে (Gestational Diabetes) আক্রান্ত হচ্ছেন। এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রসবপূর্ব সেবার (Antenatal Care) প্রতিটি স্তরে ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল তথ্যসমূহ:
WHO-এর তথ্যানুযায়ী, গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তশর্কার উপস্থিতি বা ‘জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস’ এখন আর কেবল উন্নত দেশগুলোর সমস্যা নয়; বরং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও এটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।
আক্রান্তের হার: বর্তমানে গর্ভাবস্থায় হাইপারগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার হার প্রায় ১৬.৭%।
অশনাক্ত রোগী: আক্রান্ত নারীদের একটি বড় অংশই জানেন না যে তাদের শরীরে শর্করার মাত্রা বেশি, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই প্রাণঘাতী হতে পারে।
মা ও শিশুর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব:
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে মা ও শিশুর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়:
মায়ের ঝুঁকি: প্রি-ক্ল্যাম্পসিয়া (উচ্চ রক্তচাপ), সিজারিয়ান ডেলিভারির ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা।
শিশুর ঝুঁকি: অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া (Macrosomia), জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, এবং ভবিষ্যতে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রসবপূর্ব সেবার প্রোটোকলে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে: ১. বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং: গর্ভাবস্থার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি নারীর ওজিটিটি (OGTT) পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ২. প্রাথমিক শনাক্তকরণ: প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার পর প্রথম চেক-আপেই রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা। ৩. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: ওষুধের আগে স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং নিয়ন্ত্রিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপর জোর দেওয়া। ৪. ডিজিটাল ট্র্যাকিং: গর্ভবতী নারীদের শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল হেলথ অ্যাপ ও গ্লুকোমিটার ব্যবহারের পরামর্শ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাস্ট ফুড নির্ভর জীবনযাত্রা এবং কায়িক শ্রম কমে যাওয়াই এই সমস্যার মূল কারণ। নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে মা ও শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, যেখানে বংশগতভাবে ডায়াবেটিসের প্রবণতা বেশি, সেখানে এই নির্দেশিকা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন সংক্রান্ত নিয়মিত তথ্য পেতে আমাদের ফলো করুন ও আপনার মতামত জানান: businesstoday24.com