শেয়ারবাজার স্ক্যানার: জিপিএইচ ইস্পাত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত জিপিএইচ ইস্পাত এশিয়ায় প্রথম ‘কোয়ান্টাম আর্ক ফার্নেস’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্টিল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তবে আধুনিকায়নের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে ব্যাংক ঋণের পাহাড় কোম্পানিটিকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
১. লাভ-লোকসানের অস্থিরতা (Profit/Loss Analysis)
গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিপিএইচ ইস্পাতের আয় (Revenue) বাড়লেও নিট মুনাফা স্থিতিশীল নয়।
-
বিশ্লেষণ: ২০২২-২৩ সালে ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে কোম্পানিটি লোকসানে পড়েছিল। বর্তমানে মুনাফায় ফিরলেও তা আশানুরূপ নয়।
২. বাজার মূল্য ও ক্যাটাগরি (Market Status)
বর্তমান দর: ২০২৬ সালের মার্চ অনুযায়ী, শেয়ার দর ১৬.০০ – ১৮.০০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।
মার্কেট ক্যাপ: বর্তমানে এর বাজার মূলধন প্রায় ৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
ক্যাটাগরি: লভ্যাংশ প্রদানের হার কমে যাওয়ায় এটি বর্তমানে ‘B’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ।
৩. ব্যাংক ঋণ: সবচেয়ে বড় বিষফোড়া (Debt Burden)
জিপিএইচ ইস্পাতের মূল সমস্যা হলো তাদের বিশাল আকারের ব্যাংক ঋণ। নতুন প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য দেশি-বিদেশি মিলিয়ে তাদের বর্তমান ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকার বেশি।
সুদ পরিশোধের চাপ: প্রতি বছর কোম্পানিটিকে ৬০০-৭০০ কোটি টাকা সুদ বাবদ ব্যয় করতে হয়। এটি তাদের মোট আয়ের একটি বড় অংশ গ্রাস করে ফেলছে।
রাইট শেয়ার ইস্যু: মূলধন শক্তিশালী করতে এবং ঋণের বোঝা কমাতে কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এটি সফল হলে তাদের ফিন্যান্সিয়াল কস্ট (সুদ) কমে আসবে।
৪. অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাবনা (Future Outlook)
ইতিবাচক দিক:
রপ্তানি আয়: তারা নিয়মিত বিদেশে এমএস বিলেট (Billet) রপ্তানি করছে, যা থেকে আসা ডলার তাদের এলসি জটিলতা মেটাতে সাহায্য করছে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: তাদের আধুনিক প্রযুক্তি প্রচলিত মিলগুলোর চেয়ে ৪০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে, যা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সহায়ক হবে।
ঝুঁকি:
নির্মাণ খাতের মন্দা: দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ কমলে রডের চাহিদা কমে যায়, যা সরাসরি তাদের বিক্রিতে প্রভাব ফেলে।
টাকার মান: ডলারের দাম বাড়লে স্ক্র্যাপ আমদানির খরচ বেড়ে যায়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যালেন্স শিটে।










