Home অপরাজিতা এক ডোজেই মুক্তি: জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলে বিশ্ব একজোট

এক ডোজেই মুক্তি: জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলে বিশ্ব একজোট

হেলথ ডেস্ক: জরায়ুমুখের ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে নারী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই এই মরণব্যাধি প্রতিরোধে এক অভাবনীয় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) প্রতিরোধে বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচি এখন এক নতুন উচ্চতায়।
১. ১৬৪টি দেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৪টি দেশে জাতীয়ভাবে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এটি নারী স্বাস্থ্যের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। গত দুই বছরে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. এক ডোজ ভ্যাকসিনের বৈজ্ঞানিক বিপ্লব
আগে এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বা তিন ডোজ নেওয়ার প্রয়োজন হতো, যা অনেক দেশের জন্য ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। তবে সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে:
এক ডোজের কার্যকারিতা: মাত্র এক ডোজ ভ্যাকসিনই ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।
সুবিধা: এর ফলে খরচ বহুগুণ কমে গেছে এবং অনেক বেশি সংখ্যক কিশোরীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।
৩. জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলে লক্ষ্যমাত্রা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০% কিশোরীকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে টিকার আওতায় আনা। বর্তমান সম্প্রসারণের গতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের আগেই অনেক দেশ জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪. কেন এই ভ্যাকসিন গুরুত্বপূর্ণ?
  • প্রতিরোধ: এটি জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৯০% কমিয়ে দেয়।
  • নিরাপত্তা: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত।
  • ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: এটি কেবল বর্তমান প্রজন্মের সুরক্ষা দেয় না, বরং ভবিষ্যতে এই ক্যান্সারের প্রকোপ চিরতরে কমিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করে।
ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা এবং এক ডোজের কার্যকারিতা জরায়ুমুখের ক্যান্সারমুক্ত পৃথিবী গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। ২০২৬ সালের এই অগ্রগতি নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।