Home আন্তর্জাতিক সূর্যের মহাপ্রলয়: ‘বড় বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা, বিকল হতে পারে জিপিএস ও রেডিও

সূর্যের মহাপ্রলয়: ‘বড় বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা, বিকল হতে পারে জিপিএস ও রেডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সূর্য এখন চরম অশান্ত। গত কয়েকদিনে মহাকাশে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলেছে আমাদের নিকটতম এই নক্ষত্র। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের একটি বিশালাকার ‘সানস্পট’ বা সৌরকলঙ্ক (Region 4366) বর্তমানে একটি ‘সৌরশিখা কারখানায়’ পরিণত হয়েছে। এখান থেকে নির্গত ৪টি শক্তিশালী X-class শিখা এবং অসংখ্য M-class শিখা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব আজ ৫ ফেব্রুয়ারি পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কখন কী ঘটতে পারে?
বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সৌরঝড়ের প্রভাব মূলত কয়েকটি ধাপে অনুভূত হচ্ছে:
রেডিও ব্ল্যাকআউট (ইতিমধ্যে সক্রিয়): গত ১ এবং ২ ফেব্রুয়ারি সূর্য থেকে নির্গত X8.1 মাত্রার (যা ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত শক্তিশালী) শিখার কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে ইতিমধ্যে শক্তিশালী রেডিও ব্ল্যাকআউট বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার): আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সূর্যের ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME) বা চার্জযুক্ত কণার বিশাল মেঘ আজ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানতে পারে। এর ফলে হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও যোগাযোগ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হওয়া এবং জিপিএস (GPS) ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
 বিজ্ঞানীদের মতে, এই অস্থিরতা ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বজায় থাকবে। আগামী কয়েক দিনে আরও শক্তিশালী এক্স-ক্লাস শিখা আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ
যেসব পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
১. যোগাযোগ ব্যবস্থা: শর্টওয়েভ রেডিও, জাহাজ ও বিমানের নেভিগেশন সিস্টেম সাময়িকভাবে বিকল হতে পারে। ২. স্যাটেলাইট ও জিপিএস: মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, ফলে মোবাইল ম্যাপ এবং জিপিএস নির্ভুল তথ্য দিতে ব্যর্থ হতে পারে। ৩. বিদ্যুৎ গ্রিড: অত্যন্ত শক্তিশালী ঝড় হলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী বড় কোনো গ্রিড বিপর্যয়ের সম্ভাবনা কম।
মহাজাগতিক সৌন্দর্য: অরোরা
বিপর্যয়ের আশঙ্কার পাশাপাশি আকাশপ্রেমীদের জন্য রয়েছে সুখবর। এই সৌরঝড়ের প্রভাবে উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে, এমনকি স্কটল্যান্ড বা উত্তর ইংল্যান্ডের মতো অপেক্ষাকৃত নিচের দিকের অঞ্চলেও আকাশে রঙিন আলোর নাচন বা ‘অরোরা’ দেখা যেতে পারে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এবং নাসা (NASA) সার্বক্ষণিকভাবে সূর্যের এই অঞ্চলটি পর্যবেক্ষণ করছে। বিজ্ঞানীদের পরামর্শ হলো, আজ এবং আগামীকাল বিমান চলাচল বা সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।