শিপিং ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-পরিবহন আইন (Shipping Act) একাধিকবার লঙ্ঘনের দায়ে বিশ্বের বৃহত্তম কন্টেইনার শিপিং কোম্পানি এমএসসি (Mediterranean Shipping Company)-কে ২২.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৭৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল মেরিটাইম কমিশন (FMC) অতি সম্প্রতি এই বিশাল অংকের দেওয়ানি জরিমানা আরোপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ তদন্তের পর এই রায় দেওয়া হলো।
জরিমানার মূল কারণসমূহ:
ভুল ও অতিরিক্ত বিলিং ($১৩.১৪৫ মিলিয়ন): ২০২১ সাল জুড়ে এমএসসি তাদের ‘নন-অপারেশনাল রিফার’ (বন্ধ থাকা রেফ্রিজারেটেড কন্টেইনার) ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ডেমারেজ ও ডিটেনশন ফি আদায় করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে তারা নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা চার্জ করেছে, যা আইনি ভাষায় ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
তথ্য প্রকাশে অবহেলা ($৯.৪৬ মিলিয়ন): ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বিশেষ কন্টেইনারগুলোর ভাড়ার তালিকা (Tariff) প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। ২০২২ সালের মার্চ থেকে এই বিষয়টিকে ‘ইচ্ছাকৃত ও জেনেশুনে আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করে কমিশন বড় অংকের জরিমানা আরোপ করে।
এজেন্টদের ওপর দায় চাপানো ($৬৫,০০০): ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কাস্টমস এজেন্টদের ওপর অযৌক্তিকভাবে বিলিং করার দায়ে এই জরিমানা বহাল রাখা হয়েছে।
বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধি:
কমিশন জানিয়েছে, করোনাকালীন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের পর থেকে এ ধরনের জটিল মামলার সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ থেকে দুইজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আইনজ্ঞকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানার একটি প্রাথমিক প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি পর্যালোচনার পর বর্তমান অংকটি চূড়ান্ত করা হয়। বিশ্বজুড়ে শিপিং ব্যবসার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই জরিমানা এক বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।