Home স্বাস্থ্য নতুন বছরে সুস্থ থাকতে যে পরীক্ষাগুলো আজই করবেন

নতুন বছরে সুস্থ থাকতে যে পরীক্ষাগুলো আজই করবেন

হেলথ ডেস্ক:

১. মেটাবলিক প্রোফাইল (Metabolic Profile)

মেটাবলিক রোগগুলো শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি ডায়াবেটিস বা ফ্যাটি লিভারের মতো ঝুঁকি আগেভাগেই জানতে পারবেন।

কী কী পরীক্ষা: ফাস্টিং ব্লাড সুগার, HbA1c, লিপিড প্রোফাইল, লিভার ও কিডনি ফাংশন টেস্ট।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি পরীক্ষা (Cardiovascular Risk Assessment)

বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই হার্টের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া বাধ্যতামূলক।

কী কী পরীক্ষা: রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ, লিপিড ইভালুয়েশন, ইসিজি (ECG) এবং স্ট্রেস টেস্ট।

অ্যাডভান্সড স্ক্রিনিং: যাদের বয়স ৪০-এর বেশি বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের জন্য টু-ডি ইকো (2D Echo) বা করোনারি ক্যালসিয়াম স্কোরিং করা জরুরি।

৩. ক্যানসার স্ক্রিনিং (Cancer Screening)

ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা নিরাময়যোগ্য। বয়স এবং লিঙ্গভেদে নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা করা উচিত।

মহিলাদের জন্য: ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ও সার্ভিক্যাল ক্যানসার স্ক্রিনিং।

পুরুষদের জন্য: প্রোস্টেট ও কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিং।

৪. লিভার ও কিডনির যত্ন

ভারতে ফ্যাটি লিভার এখন একটি মহামারীর রূপ নিয়েছে। জীবনযাত্রার অনিয়ম থেকে বাঁচতে এই পরীক্ষাগুলো জরুরি:

লিভার: লিভার এনজাইম টেস্ট, পেটের আল্ট্রাসাউন্ড বা ফাইব্রোস্ক্যান (FibroScan)।

কিডনি: সিরাম ক্রিয়েটিনিন, eGFR এবং ইউরিন রুটিন টেস্ট।

৫. থাইরয়েড ও হাড়ের স্বাস্থ্য

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য থাইরয়েড সঠিক থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধে ভিটামিন চেক-আপ জরুরি।

পরীক্ষা: TSH, T3, T4 এবং ভিটামিন D3 ও B12। প্রয়োজনে বোন মিনারেল ডেনসিটি (BMD) টেস্ট।

৬. চোখ, কান ও দাঁতের পরীক্ষা

বয়সের সাথে সাথে কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং দাঁতের নিয়মিত চেক-আপ করা উচিত। এটি আপনার জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।

৭. মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনধারা মূল্যায়ন

শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে মানসিক প্রশান্তি অপরিহার্য। আপনার ঘুমের মান, মানসিক চাপ (Stress) এবং পুষ্টির ভারসাম্য ঠিক আছে কি না, তা বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে জেনে নিন।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: “মেটাবলিক বা হৃদরোগ অনেক সময় বছরের পর বছর কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে থেকে যায়। সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং করলে জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।” — ডাঃ প্রিয়াঙ্কা কিষাণ পোখারিয়াল (সাইফি হাসপাতাল)।