ডালিয়ান, চীন: বিশ্বব্যাপী নৌ-পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষে বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করল চীন। উত্তর চীনের ডালিয়ান শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি (DSIC) বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে অঞ্চলের প্রথম ‘মিথানল ডুয়াল-ফুয়েল’ (Methanol Dual-Fuel) কন্টেইনার জাহাজ।
বিশাল আকৃতির এই জাহাজটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে চীনের আধিপত্য আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কারিগরি সক্ষমতা ও নকশা ৩৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৫১ মিটার প্রস্থের এই বিশাল জাহাজটির ধারণক্ষমতা ১৬,১৩৬ TEUs (কন্টেইনার)। বিশেষায়িত এই জাহাজে ১,০০০টি রেফার (শীতলীকৃত) কন্টেইনার পরিবহনের সুবিধা রয়েছে, যা পচনশীল পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এতে যুক্ত করা হয়েছে ১১,০০০ কিউবিক মিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশালাকার মিথানল স্টোরেজ ট্যাংক।
পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন জাহাজটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ডুয়াল-ফুয়েল’ ইঞ্জিন, যা প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি মিথানলেও চলতে সক্ষম। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এর ফলে জাহাজটির পুরো জীবনচক্রে কার্বন নিঃসরণ ৯০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পাবে।
এটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) ২০৩০ সালের পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় এক ধাপ।
কৌশলগত রুট জাহাজটি মূলত সুদূর প্রাচ্য (Far East) থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল (US East Coast) পর্যন্ত একমুখী দীর্ঘ যাত্রা বিরতিহীনভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশগত ছাড়ের কারণে এই রুটে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করছে মালিকপক্ষ।
বিশেষজ্ঞ মতামত বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর চীনের ডালিয়ান বন্দর থেকে এই শ্রেণির জাহাজ সরবরাহ প্রমাণ করে যে চীন এখন হাই-টেক গ্রিন শিপবিল্ডিংয়ে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
এলএনজি-র তুলনায় মিথানল ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হওয়ায় ভবিষ্যতে এই ধরণের জাহাজের চাহিদা আরও বাড়বে।