Home আন্তর্জাতিক পরিচয় বদলে ভারতের আলং সৈকতে মার্কিন জাহাজ

পরিচয় বদলে ভারতের আলং সৈকতে মার্কিন জাহাজ

ছবি সংগৃহীত

১০ বছরের পুরনো অঙ্গীকার ভাঙল ম্যাটসন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: মার্কিন শিপিং জায়ান্ট ম্যাটসন (Matson) তাদের পুরোনো জাহাজ দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রসৈকতে না ফেলার ১০ বছরের পুরনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। পরিচয় গোপন করতে নাম ও পতাকা পরিবর্তন করে তাদের সাবেক মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘মকিহানা’ (MOKIHANA)-কে এখন ভারতের আলং সৈকতের বিতর্কিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
পরিবেশবাদী সংস্থা বাসেল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (BAN) এবং এনজিও শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, জাহাজটির প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে:
 জাহাজটিকে এখন সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস-এর পতাকায় নিবন্ধিত করা হয়েছে, যা জাহাজ স্ক্র্যাপ করার ক্ষেত্রে ‘সুবিধাজনক পতাকা’ (Flag of convenience) হিসেবে পরিচিত। ‘মকিহানা’ নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘মখিয়া’ (MOKHIA)
বর্তমান অবস্থান: ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, জাহাজটি এখন প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে ভারতের ভাবনগর বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি আলং-এর সৈকতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অঙ্গীকার ভঙ্গ ও বিশ্বজুড়ে সমালোচনা
২০১৫ সালে ম্যাটসন জনসম্মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দক্ষিণ এশীয় সৈকতে কোনো জাহাজ ভাঙবে না। বর্তমান এই পদক্ষেপকে সেই প্রতিশ্রুতির ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
ব্যান (BAN)-এর প্রধান জিম প্যাকেট বলেন, “এই লুকোচুরি ম্যাটসনের করপোরেট দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটি বাসেল কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
অন্যদিকে, এনজিও শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের পরিচালক ইংভিল্ড জেনসেন জানান, খরচ বাঁচাতে এবং সস্তা শ্রম ব্যবহারের লক্ষ্যেই কোম্পানিটি এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে।
পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
সৈকতে জাহাজ ভাঙার ফলে নির্গত অ্যাসবেস্টস, সীসা এবং তেল অবশিষ্টাংশ সমুদ্রের পানি ও স্থানীয় পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে। পরিবেশবাদীদের মতে, হংকং কনভেনশনের দোহাই দিয়ে ম্যাটসন দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও ভারতে এখনও কোনো ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি।
সংস্থাগুলো এখন ম্যাটসনের বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে তারা জাহাজটি পুনরায় নিরাপদ রিসাইক্লিং সুবিধায় ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।