ফ্লোরিডায় নতুন বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরিবেশ রক্ষার নামে ব্যবহৃত ‘কাগজের স্ট্র’ (Paper Straw) নিয়ে এবার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য সরকার প্লাস্টিকের পরিবর্তে ব্যবহৃত এই কাগজের স্ট্র নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। অভিযোগ উঠেছে, এই স্ট্রগুলোতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে।
কেন এই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব?
সম্প্রতি ফ্লোরিডার আইনসভায় পেশ করা সিনেট বিল ৯৫৮ এবং এইচবি ২১৯৫-এ দাবি করা হয়েছে, কাগজের স্ট্র আদতে জনস্বাস্থ্যের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে অধিকাংশ কাগজের স্ট্র-তে PFAS (per- and polyfluoroalkyl substances) নামক এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে। এই রাসায়নিকটি পরিবেশে বা মানুষের শরীরে সহজে মিশে যায় না বলে একে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ বা ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ বলা হয়।
স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব
গবেষকদের মতে, কাগজের স্ট্র-কে দীর্ঘক্ষণ তরলে ভিজিয়ে রাখার উপযোগী এবং পানি-রোধী করতে এই PFAS ব্যবহৃত হয়। এর সংস্পর্শে আসার ফলে দীর্ঘমেয়াদী কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে:
- ক্যানসার: নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
- অঙ্গহানি: যকৃৎ বা কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে।
- প্রজনন সমস্যা: এটি মানুষের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
প্লাস্টিক বনাম কাগজ: এক নতুন সংকট
দীর্ঘদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ ইয়র্ক এবং কানেকটিকাটের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো পরিবেশ দূষণ কমাতে প্লাস্টিক স্ট্র নিষিদ্ধ করে আসছে। প্লাস্টিক পচতে কয়েক দশক সময় নিলেও কাগজ দ্রুত পচে যায়—এই যুক্তিতেই কাগজের স্ট্র জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু ফ্লোরিডার প্রস্তাবিত বিলে বলা হচ্ছে, পরিবেশগত সুবিধার চেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এখানে অনেক বেশি।
যদিও প্লাস্টিক স্ট্র থেকে ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ শরীরে প্রবেশের ভয় থাকে, তবুও কাগজের স্ট্র-র রাসায়নিক প্রভাবকে অধিকতর বিপজ্জনক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিকল্প কী?
২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষিত ৯০ শতাংশ কাগজের স্ট্র-তেই PFAS-এর উপস্থিতি ছিল। বিজ্ঞানীরা এখন কাগজের স্ট্র-র পরিবর্তে স্টেইনলেস স্টিল বা ধাতব স্ট্র ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া বাঁশ বা কাঠের তৈরি স্ট্র-তেও অনেক সময় একই ধরনের রাসায়নিক পাওয়া গেছে।
ফ্লোরিডার এই বিলটি পাস হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনগুলোকে তাদের স্ট্র সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করতে হবে। তবে হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার এবং নার্সিং হোমগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।










