Home আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য রেড অ্যালার্ট: কেন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে বলছেন শিফ?

বিনিয়োগকারীদের জন্য রেড অ্যালার্ট: কেন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে বলছেন শিফ?

অর্থনৈতিক ডেস্ক: বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং ‘ইউরো প্যাসিফিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা পিটার শিফ (Peter Schiff) সম্প্রতি মার্কিন অর্থনীতি ও বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে যে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আমরা কেবল একটি সাধারণ মন্দার দিকে নয়, বরং একটি বিশাল আর্থিক পতনের (Financial Collapse) দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

নিচে তাঁর সতর্কবাণী এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:
মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ ও পিটার শিফের ‘বিস্ফোরক’ পূর্বাভাস
পিটার শিফের মতে, মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের একাধিপত্য এখন শেষের পথে। তিনি মনে করেন, মার্কিন সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং ভুল আর্থিক নীতির কারণে ডলারের ওপর থেকে বিশ্বের আস্থা উঠে যাচ্ছে।
১. ডলারের পতন ও স্বর্ণের উত্থান
শিফ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন যে, মার্কিন ডলারের চূড়ান্ত পতন ঘটবে এবং স্বর্ণ (Gold) পুনরায় বিশ্ব মুদ্রার প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ফিরে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন:
বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো এখন ডলার বা মার্কিন ট্রেজারি বন্ড রাখার পরিবর্তে স্বর্ণের মজুদ বাড়াতে বেশি আগ্রহী।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় (প্রতি আউন্স ৫,০০০ ডলারের উপরে) পৌঁছানো কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি একটি আসন্ন ঝড়ের সংকেত।
২. ২০০৮ সালের চেয়েও ভয়াবহ সংকট
শিফ সতর্ক করেছেন যে, আসন্ন অর্থনৈতিক সংকট ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দাকেও হার মানাবে। তাঁর মতে, ২০০৮ সালের সংকট ছিল আবাসন খাতের বুদবুদ, কিন্তু এবারের সংকট হবে সরাসরি মার্কিন ডলার এবং সরকারি ঋণের ওপর। তিনি একে “বিশাল বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৩. ফিয়াট কারেন্সির ওপর আস্থার অভাব
শিফের দাবি, বর্তমান মুদ্রাব্যবস্থা বা ‘ফিয়াট কারেন্সি’ (কাগজের মুদ্রা যা কোনো বাস্তব সম্পদ দ্বারা সমর্থিত নয়) একটি বিশাল ঝুঁকির মুখে। মানুষ যখন বুঝতে পারবে ডলারের প্রকৃত কোনো মূল্য নেই, তখন তারা স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো বাস্তব সম্পদের দিকে ঝুঁকবে। তিনি সাম্প্রতিক স্বর্ণ ও রৌপ্যের মূল্যের ওঠানামাকে আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরের ত্রুটির প্রতিফলন বলে মনে করেন।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও শিফের ভিন্নমত
গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রৌপ্যের দাম ১৬% এবং স্বর্ণের দাম ৪% কমে যায়। অনেক বিশেষজ্ঞ একে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাসের ফল হিসেবে দেখছেন। তবে পিটার শিফ এই পতনে বিচলিত নন। তিনি মনে করেন:
এটি একটি সাময়িক ‘কারেকশন’ (Price Correction)
বিনিয়োগকারীদের উচিত শেয়ার বাজারের কৃত্রিম চাকচিক্য ছেড়ে স্বর্ণের দিকে মনোনিবেশ করা।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ঋণের বোঝা (যা বর্তমানে ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে) এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য শিফের মূল বার্তা

“অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারছেন না যে সামনের দিনগুলোতে কী ঘটতে চলেছে। যখন ধাক্কাটি আসবে, তখন বিনিয়োগকারীরা হতবাক হয়ে যাবেন। আপনার পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনুন এবং বাস্তব সম্পদে (যেমন স্বর্ণ ও রৌপ্য) বিনিয়োগ করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।”

পিটার শিফের এই ভবিষ্যদ্বাণী অতীতে (২০০৮ সালে) সঠিক প্রমাণিত হওয়ায় এবারও তাঁর কথাকে অবহেলা করার সুযোগ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।