Home Third Lead চট্টগ্রামমুখী জাহাজ ডুবি: সামুদ্রিক পরিবেশ বিপর্যয় রোধে যুদ্ধকালীন তৎপরতা

চট্টগ্রামমুখী জাহাজ ডুবি: সামুদ্রিক পরিবেশ বিপর্যয় রোধে যুদ্ধকালীন তৎপরতা

ছবি সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামমুখী পানামা পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘SEALLOYD ARC’ আন্দামানে ফুকেট উপকূলে নিমজ্জিত হওয়ার পর সামুদ্রিক পরিবেশ বিপর্যয় রোধে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে কাজ শুরু করেছে থাই কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে তেল নিঃসরণ এবং জাহাজে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের ঝুঁকি মোকাবিলায় থাই মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট কমান্ড সেন্টার (Thai-MECC) একটি শক্তিশালী ‘সিচুয়েশন কমান্ড সেন্টার’ বা ‘ওয়ার রুম’ গঠন করেছে।
জাহাজটিতে মোট ২৯৭টি কন্টেইনার ছিল, যার মধ্যে ১৪টি কন্টেইনারে অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। শনিবার জাহাজটি ডুবির পর সাগরে প্রায় ৪.৫ মাইল দীর্ঘ এবং ১ মাইল প্রশস্ত একটি তেলের আস্তরণ (Oil Slick) শনাক্ত করা হয়েছে। এই পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে থাই নৌবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে:
তেল অপসারণ অভিযান (Oil-Spill Response): এইচটিএমএস ম্যাপপন (HTMS Matphon)-কে কমান্ড শিপ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি PTT-এর সহায়তায় তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশেষ কেমিক্যাল (Dispersants) এবং তেল শোষণের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংগৃহীত ছবি
বিপজ্জনক কন্টেইনার শনাক্তকরণ: থাই নৌবাহিনীর বিশেষ বিমান (DO-228) এবং হেলিকপ্টার (S-76B) আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে যাতে সাগরে ভাসমান কন্টেইনারগুলো দ্রুত উদ্ধার করা যায় এবং সেগুলো যাতে নৌ-চলাচলে বাধা বা পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে।
ডুবুরি ও ড্রোন দল: নিমজ্জিত জাহাজের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং তেলের পাইপলাইনে কোনো ছিদ্র আছে কি না তা পরীক্ষা করতে ড্রোন দল এবং বিশেষ অপারেশন টিম কাজ করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতা কম থাকায় পানির নিচে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
কমান্ড সেন্টারের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল বিরুদোম মুয়াংচিন পরিস্থিতির ব্যাপারে অবহিত করেছেন যে জাহাজটি আগের স্থান থেকে কিছুটা সরে যাওয়ায় বর্তমানে এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬১ মিটার গভীরে অবস্থান করছে।
প্রবল স্রোত এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব প্রাথমিক উদ্ধার তৎপরতাকে কিছুটা ধীর করলেও আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ভারী ক্রেন বার্জ এবং বিশেষ নৌযান মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত ফুকেটের মূল পর্যটন সৈকতগুলোতে তেলের আস্তরণ পৌঁছায়নি, যা পরিবেশবাদীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে বিপজ্জনক রাসায়নিকের কন্টেইনারগুলো অক্ষত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।