Home Third Lead মুখোশের আড়ালে ছুরি ও দ্বিমুখী আচরণের সমাজতত্ত্ব

মুখোশের আড়ালে ছুরি ও দ্বিমুখী আচরণের সমাজতত্ত্ব

অফিস রাজনীতি-৪

মো. আজগর আলী

অফিস রাজনীতির চতুর্থ পর্বে উঠে এসেছে পেশাদারিত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা এবং দ্বিমুখী আচরণের নেতিবাচক প্রভাব। যখন বিশ্বাস ও সততার মুখোশ পরে সহকর্মীরা একে অপরের ক্ষতি করার প্রতিযোগিতায় নামে, তখন কর্মপরিবেশে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়। এই পর্বে আমরা আলোচনা করব কীভাবে এই সমাজতত্ত্ব একটি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে অকেজো করে দেয়।

প্রতিবেদনের বিস্তারিত

অফিস রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অধ্যায় হলো ‘ছদ্মবেশী শত্রুতা’। এখানে আক্রমণ হয় নিঃশব্দে, আর আঘাত আসে অত্যন্ত আপনজনের মতো দেখতে কোনো সহকর্মীর কাছ থেকে। সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে মেধার চেয়ে মোসাহেবি বা লবিং বেশি গুরুত্ব পায়, তখন সেখানে দ্বিমুখী আচরণের বিস্তার ঘটে। এই সংস্কৃতির মূল অস্ত্র হলো তথ্য গোপন করা, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অন্যের চরিত্র হনন করা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যারা দ্বিমুখী আচরণ করেন তারা মূলত হীনম্মন্যতায় ভোগেন। তারা জানেন যে নিজের দক্ষতা দিয়ে ওপরে ওঠা সম্ভব নয়, তাই তারা অন্যের ক্যারিয়ারে অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এই ‘মাস্ক কালচার’ বা মুখোশধারী সমাজে দিনের বেলা যারা একে অপরের সাথে হাসিমুখে কথা বলেন, রাতের অন্ধকারে তারাই আবার কর্তৃপক্ষের কানে বিষ ঢালতে দ্বিধা করেন না। এর ফলে অফিসে এমন এক অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে সৃজনশীলতা পুরোপুরি থমকে যায়।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার অভাবই এই দ্বিমুখী আচরণের পথ প্রশস্ত করে। যখন কাজের মূল্যায়ন সঠিক পদ্ধতিতে হয় না, তখন কর্মীরা কাজ করার চেয়ে অন্যের পা টেনে ধরাকে বেশি লাভজনক মনে করেন। এই ‘পিঠে ছুরি মারা’র সংস্কৃতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সেই প্রতিষ্ঠানটি এক সময় মেধা শূন্য হয়ে পড়ে। কারণ দক্ষ এবং নীতিবান কর্মীরা এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে কাজ করতে চান না।

আগামী পর্বে: ক্ষমতার ছায়া ও নিচের তলার নীরব হাহাকার

এই প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মতামত কী? অফিস রাজনীতির এমন অভিজ্ঞতা কি আপনার কর্মজীবনেও ঘটেছে? আপনার মন্তব্য আমাদের জানান নিচের কমেন্ট বক্সে। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের সচেতন করুন।