Home অন্যান্য কেন মানুষ সহকর্মীদের পেছনে লেগে থাকে?

কেন মানুষ সহকর্মীদের পেছনে লেগে থাকে?

অফিস রাজনীতির মনস্তত্ত্ব

ফরিদুল আলম
অফিস বা কর্মক্ষেত্র মানেই কেবল কাজের জায়গা নয়, এটি মানুষের বিচিত্র সব আচরণের এক বিশাল মঞ্চ। এখানে কেউ আসেন ক্যারিয়ার গড়তে, কেউ আসেন নিজেকে প্রমাণ করতে, আবার কেউ আসেন ক্ষমতার এক অদৃশ্য যুদ্ধে জয়ী হতে। এই যুদ্ধের সবচেয়ে নেতিবাচক দিকটি হলো ‘অফিস রাজনীতি’। অনেক সময় দেখা যায়, একজন সহকর্মী অন্যজনের পেছনে অনবরত লেগে থাকেন, কাজে বাধা সৃষ্টি করেন কিংবা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে নেতিবাচক তথ্য পরিবেশন করেন। কিন্তু কেন মানুষ এমনটা করে? এর পেছনে কাজ করে গভীর কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
নিরাপত্তাহীনতা ও হীনম্মন্যতা
অফিস রাজনীতির মূলে থাকে চরম নিরাপত্তাহীনতা। যখন কোনো কর্মী মনে করেন যে তার সহকর্মী তার চেয়ে বেশি যোগ্য বা দ্রুত সফল হয়ে যাচ্ছেন, তখন তিনি নিজের অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই হীনম্মন্যতা থেকেই তিনি সেই সহকর্মীকে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তিনি মনে করেন, অন্যের ক্ষতি করতে পারলে নিজের দুর্বলতাগুলো ঢাকা পড়বে।
ক্ষমতার মোহ ও নিয়ন্ত্রণ
মানুষের আদিম প্রবৃত্তি হলো আধিপত্য বিস্তার করা। অফিসের সীমাবদ্ধ কাঠামোয় নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকে রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। তারা মনে করেন, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারলে বা অন্যদের ছোট করতে পারলে নিজেদের কর্তৃত্ব মজবুত হবে। এটি মূলত একটি ‘জিরো-সাম গেম’ মানসিকতা, যেখানে একজনের জয় মানেই অন্যজনের পরাজয়।
মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা (Attention Seeking)
অনেক সময় কর্মীরা যথাযথ স্বীকৃতি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এই হতাশা থেকে তারা নেতিবাচক উপায়ে উর্ধ্বতনদের নজরে আসার চেষ্টা করেন। অন্যদের কাজের ভুল ধরা বা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে তারা নিজেদের ‘সতর্ক’ বা ‘প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগত’ প্রমাণ করতে চান।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির প্রভাব
যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় বা তোষামোদকারীদের পুরস্কৃত করে, তবে সাধারণ কর্মীরাও সেই পথে হাঁটতে বাধ্য হন। যখন পারফরম্যান্সের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পায়, তখন যোগ্যতার লড়াই থমকে যায় এবং রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ
অতীতের কোনো ছোট ঘটনা বা মতবিরোধ থেকে অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী প্রতিহিংসার জন্ম নেয়। সেই ক্ষোভ মেটাতে অনেক কর্মী পেশাদারিত্ব ভুলে ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হাঁটেন। সহকর্মীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হওয়া এবং তাকে অপদস্থ করার মাধ্যমে এক ধরণের বিকৃত মানসিক তৃপ্তি খোঁজার চেষ্টা করেন অনেকে।
প্রতিকার কী?
অফিস রাজনীতির এই মনস্তাত্ত্বিক চক্র থেকে বের হতে হলে প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব দিতে হবে এবং কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে সহকর্মীদের সাথে পেশাদার দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিজের কাজে মনোনিবেশ করাই হলো এই বিষাক্ত রাজনীতি থেকে বাঁচার সেরা উপায়।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com