বিমানবন্দরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চেম্বার সভাপতির ফুলেল শুভেচ্ছা
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে করছাড় বৃদ্ধি ও ব্যবসায় প্রাণ ফেরাতে বিশেষ প্রণোদনার আশ্বাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন, তা এখন বাস্তবায়নে রূপ নিচ্ছে। আর এই বিশাল অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রভাগে রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য অনুমোদিত ৬টি বৃহৎ মেগা প্রকল্প।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে এই অর্থনৈতিক ভাবনারই এক বিশাল প্রতিফলন দেখা যায়। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধিদের এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয় বিমানবন্দর এলাকা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি হিসেবে বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর বাণিজ্যিক রাজধানীর প্রতি এই বিশেষ নজরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আনোয়ারা উপজেলায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ, পতেঙ্গা হতে সাগরিকা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মতো যোগাযোগ ও শিল্পভিত্তিক অবকাঠামোগুলো চালু হলে এই অঞ্চলের সামগ্রিক ব্যবসায়িক চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। এর পাশাপাশি ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন রেলপথ প্রকল্প রাজধানী ও বন্দরের দূরত্ব কমিয়ে আনবে বহুগুণ। শুধু শিল্প বা ব্যবসাই নয়, চট্টগ্রামের মানুষের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স এবং কক্সবাজারের রামুতে বিশ্বমানের ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগও এই উন্নয়ন মহাপরিকল্পনাকে পূর্ণতা দিয়েছে।
চট্টগ্রামের এই অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই বৃহৎ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করবে।
বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান ও এনামুল হক এনাম এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. বেলায়েত হোসেন। ব্যবসায়িক খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ ১ম সহ-সভাপতি মো. সেলিম রহমান, বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হুসেইন আকবর আলী, চেম্বারের প্রাক্তন সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ ছালাম, প্রাক্তন সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’র সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, ইতালির অনারারী কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’র সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন এবং আবুল খায়ের গ্রুপের ডিএমডি আবু সাঈদ চৌধুরী। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার এই মহাসড়কে শামিল হতে মন্ত্রীর প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।
নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী সমাজের এই যৌথ দূরদর্শিতা এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাকে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্পর্শ করতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।










