Home আন্তর্জাতিক অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সোনালী দিন কি শেষ?

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সোনালী দিন কি শেষ?

কড়াকড়ি ও সংকটে দিশেহারা বাংলাদেশিরা
  • ১. ভিসা নীতিতে কঠোরতা ও ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ টেস্ট
  • ২. ইংরেজি ভাষার উচ্চতর যোগ্যতা
  • ৩. কাজের সুযোগে সীমাবদ্ধতা
  • ৪. পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক পারমিটে কোপ
  • ৫. আবাসন সংকট ও বর্ণবাদ
মোসাদ্দেক শহিদ, ব্রিসবেন: উচ্চশিক্ষা এবং উন্নত জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে আসা আমূল পরিবর্তন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট শিক্ষার্থীদের জন্য এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এক সময়ের অবারিত সুযোগ-সুবিধা এখন অনেকটাই সংকুচিত।
অস্ট্রেলিয়া সরকার সম্প্রতি তাদের স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আগে যেখানে ‘জেনুইন টেম্পোরারি এনট্র্যান্ট’ (GTE) ছিল, এখন সেখানে আরও কঠিন ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ (GS) টেস্ট চালু করা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র যারা সত্যিকার অর্থেই পড়াশোনা করতে চান, তাদেরই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ভিসার আবেদন বাতিল হওয়ার হার বেড়েছে।
স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আইইএলটিএস (IELTS) স্কোরের প্রয়োজনীয়তা বাড়ানো হয়েছে। স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের জন্য আগে যেখানে গড় স্কোর ৬.০ বা ৬.৫ গ্রহণ করা হতো, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা ৬.৫ থেকে ৭.০-এ উন্নীত করা হয়েছে। এটি বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সময়ের যে অবাধ সুযোগ (Uncapped hours) ছিল, তা ২০২৩ সালের জুলাই থেকে পুনরায় সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাক্ষিক (Fortnightly) মাত্র ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন।
অন্যদিকে সিডনি বা মেলবোর্নের মতো শহরগুলোতে ঘর ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ৩০-৪০% বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত আয়ে জীবন চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পড়াশোনা শেষ করার পর কাজের সুযোগ বা ‘টিআর’ (Temporary Graduate Visa) এর ক্ষেত্রে। সরকার গত বছরের শেষ দিকে বেশ কিছু কোর্সের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২ বছরের এক্সটেনশন সুবিধা বাতিল করেছে।
এছাড়া ভিসার জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫০ থেকে কমিয়ে ৩৫ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা অনেক উচ্চতর গবেষক বা পিএইচডি শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোতে বর্তমানে ভয়াবহ আবাসন সংকট চলছে। পর্যাপ্ত হোস্টেল বা ভাড়ার বাসা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়দের মধ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া এখন ‘কোয়ালিটি’ বা মানসম্মত শিক্ষার্থী চায়, ‘কোয়ান্টিটি’ বা সংখ্যা নয়। তারা মূলত সেইসব শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করছে যারা নার্সিং, টিচিং, ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটির মতো দক্ষ খাতে অবদান রাখতে পারবে।
অস্ট্রেলিয়ায় সুযোগ এখনো আছে, তবে তা এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। যারা পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি এবং উচ্চতর ইংরেজি দক্ষতা নিয়ে আসতে পারবেন, তাদের জন্য পথটি এখনো খোলা। তবে আগের মতো কেবল কাজের উদ্দেশ্যে এসে পড়াশোনা করার দিনগুলো ক্রমান্বয়ে শেষ হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়া ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।