বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং দেশের সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে এক বিস্ফোরক ও আবেগী বক্তব্য দিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদ ও দ্বিমুখী নীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
‘জেন-জি’ যেন ‘জামায়াত জেনারেশন’ না হয়
বক্তব্যের শুরুতেই তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’র (Gen-Z) প্রশংসা করার পাশাপাশি একটি বিশেষ বিষয়ে সতর্ক করেন পার্থ। তিনি বলেন:
“আপনারা জেন-জিকে রিপ্রেজেন্ট করেন। দয়া করে ‘জামায়াত জেনারেশন’ হয়ে যাইয়েন না।”
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি সারাজীবন ভারতের বিরোধিতা করে এখন তাদের সাথেই বৈঠক করছে। আবার ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করলেও ভোটের সমীকরণে এসে বলছে তারা শরিয়াহ আইন চায় না। এই দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে তরুণদের পজিটিভ রাজনীতি করার পরামর্শ দেন তিনি।
সংবিধান কি ‘ছুড়ে ফেলার’ বস্তু?
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন পার্থ। তার আপত্তির মূল জায়গা ছিল সংবিধান বাতিল করার প্রবণতা। তার যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রক্রিয়াগত ভুল: যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন কিছু গড়তে হতো, তবে শুরুতেই ‘বিপ্লবী’ বা ‘ট্রানজিশনাল’ সরকার গঠন করা উচিত ছিল। বর্তমান আইনি কাঠামোর ভেতর থেকে সংবিধান বাতিল করা সাংবিধানিক স্ববিরোধিতা।
মুক্তিযুদ্ধের দলিল: সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র দলিল আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এতে এত গাত্রদাহ কেন? প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন তো করাই যায়, কিন্তু ছুড়ে ফেলার প্রয়োজন নেই।”
ভিন্নমত মানেই বিরোধী নয়: কেউ যৌক্তিক সমালোচনা করলেই তাকে ‘জুলাইয়ের বিপক্ষ শক্তি’ হিসেবে ট্যাগ করাকে তিনি আওয়ামী লীগের আমলের মানসিকতার সাথে তুলনা করেন।
৬ বলে ১২ রান বনাম ৩০০ রানের ইনিংস
জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিতে পার্থ ক্রিকেটের উদাহরণ টেনে বলেন:
“আপনারা শেষ ৬ বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু তার আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। এমন ভাব করবেন না যেন জুলাইয়ে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নাই!”










