Home চট্টগ্রাম এক প্রতীক, দুই চিঠি: রাউজানে বিএনপির ‘দ্বৈত’ সংকটে বিভ্রান্ত তৃণমূল

এক প্রতীক, দুই চিঠি: রাউজানে বিএনপির ‘দ্বৈত’ সংকটে বিভ্রান্ত তৃণমূল

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান। এক সময়ের রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু এই জনপদে এখন বিরাজ করছে এক অদ্ভুত নীরবতা। দেশের অন্য সব আসনে নির্বাচনী আমেজ শুরু হলেও রাউজানে বিএনপি শিবিরে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা। ধানের শীষের টিকিট নিয়ে দুই হেভিওয়েট নেতার লড়াইয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীরা এখন দ্বিধাবিভক্ত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ‘নির্লিপ্ত’ অবস্থানে রয়েছেন।
মনোনয়নের ‘লন্ডন কানেকশন’ ও নাটকীয় মোড়
বিশ্বস্ত সূত্রমতে, রাউজান বিএনপির দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ পাল্টে যায় মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যখন লন্ডনে অবস্থান করছিলেন, তখন থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছিল সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকারই হতে যাচ্ছেন দলের কাণ্ডারি। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন।
তবে রাজনীতির ‘গণেশ উল্টে যায়’ যখন ঢাকা থেকে প্রথম চিঠিটি ইস্যু করা হয় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামে। নাটকীয়তা এখানেই শেষ নয়; তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রেক্ষাপটে গুলশানে অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের বৈঠকেই আবার চিঠি তুলে দেওয়া হয় গোলাম আকবর খোন্দকারের হাতে।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: * গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চিঠি এখনো বহাল।
  • গোলাম আকবর খোন্দকারও হাতে পেয়েছেন মনোনয়নের চিঠি।
  • কারও চিঠিই এখনো বাতিল করা হয়নি।
তৃণমূলের চিত্র: একদল সক্রিয়, সিংহভাগ দর্শক
রাউজানের মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কিছু অতি উৎসাহী নেতা-কর্মী দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এক পক্ষ গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারী, অন্য পক্ষ গোলাম আকবর খোন্দকারের সমর্থনে সরব।
তবে সাধারণ নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ বর্তমানে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, “এখনই কারও পক্ষে সরাসরি মাঠে নেমে বিপদ ডেকে আনতে চাই না।” প্রতীক বরাদ্দের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে শেষ পর্যন্ত কে ধানের শীষ বুঝে পান, তা দেখেই তারা মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”আমরা এখন পর্যবেক্ষক। ভুল মানুষের পেছনে মেহনত করে পরে রোষানলে পড়তে চাই না। প্রতীক যার, আমরা তার।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাউজান বিএনপির এক স্থানীয় নেতা।
স্থবির নির্বাচনী তৎপরতা
রাউজানে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ক্যাম্পেইন বা গণসংযোগ চোখে পড়ছে না। সবখানে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে সম্প্রতি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে গোলাম আকবর খোন্দকারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি দলীয় মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুই নেতার ‘টেনশন’ ও নেপথ্যের তদবির
মনোনয়ন যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং গোলাম আকবর খোন্দকার—উভয়কেই চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। দলীয় সূত্র বলছে, দুজনেই এখন কেন্দ্রের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নানা কৌশলে ব্যস্ত। লক্ষ্য একটাই—নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিপক্ষের চিঠিটি বাতিল করানো।
 রাউজানে ধানের শীষের চূড়ান্ত কাণ্ডারি কে হবেন, তা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রতীক বরাদ্দের দিনই কাটবে এই ধোঁয়াশা। তবে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর অনিশ্চয়তা ভোটের মাঠে দলের সাংগঠনিক শক্তিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।