সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার আহ্বান
বিজনেসটুডে ২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশে ক্রমবর্ধমান এলপিজি সংকট মোকাবিলা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এলপিজি বাজারে নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান যে, আসন্ন রমজানের আগেই এলপিজি সংকট কেটে যাবে। তবে তিনি বর্তমান বাজার ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, “আমদানিকারকদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া এবং পরিবেশকদের তালিকা সঠিকভাবে না আসায় বাজার মূল্যায়ন ও দাম নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ক্রেতাদের আধিপত্য এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানি কিছুটা কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে পাইপলাইনের গ্যাসের সংকটের কারণে এলপিজির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে, যা অচিরেই ৩৫ লাখ গ্রাহকে পৌঁছাবে।
ড. ম. তামিম তার প্রবন্ধে এলপিজি খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন:
- জটিল লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া: বর্তমানে এলপিজি অপারেটরদের রুটিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০টিরও বেশি সংস্থা থেকে ২৬টিরও বেশি পৃথক অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
- উচ্চ আর্থিক বোঝা: একজন অপারেটরের বার্ষিক লাইসেন্সিং ও কমপ্লায়েন্স খরচ প্রায় ৯৫ লাখ টাকা এবং পরোক্ষ খরচসহ তা প্রায় ১.৫০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
- অপ্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি বাধ্যবাধকতা: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষার রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি প্ল্যান্টে নিজস্ব ল্যাব স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা প্রায় ১.৫ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয়ের সৃষ্টি করে।
- পরিবেশগত ভুল শ্রেণিবিন্যাস: এলপিজি ফিলিং প্ল্যান্টগুলো বর্তমানে ‘হলুদ’ (Yellow) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত, যা অপ্রয়োজনীয় পরিদর্শন ও কমপ্লায়েন্স খরচ বাড়াচ্ছে।
ড. ম. তামিম-এর প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ:
বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ড. তামিম বেশ কিছু সুপারিশ করেন: ১. লাইসেন্সের মেয়াদ বৃদ্ধি: লাইসেন্সের মেয়াদ বার্ষিক থেকে পরিবর্তন করে ৫-১০ বছর করা। ২. একক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ: বিইআরসি বা বিডার অধীনে একটি একক জানালা (Single Window) ব্যবস্থা চালু করা। ৩. ডিজিটালাইজেশন: ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ লাইসেন্সিং ইকোসিস্টেম ডিজিটাল করা। ৪. শ্রেণি পরিবর্তন: এলপিজি ফিলিং প্ল্যান্ট ও জেটিগুলোকে ‘সবুজ’ (Green) শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান এলপিজিকে ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান।
লোয়াব (LOAB) সভাপতি আমিরুল হক জানান, উচ্চ নবায়ন ফি এবং কার্গো খালাসের সীমাবদ্ধতা দূর না হলে সংকট কাটবে না।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা একমত হন যে, এলপিজি খাতের সংস্কার মানে নিয়ন্ত্রণহীনতা নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘স্মার্ট রেগুলেশন’। fragmented বা খণ্ডিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ, ডিজিটাল এবং বিনিয়োগবান্ধব কাঠামোই পারে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।










