Home First Lead এলপিজি: কাগজে কলমে আমদানির জোয়ার, খুচরা বাজারে হাহাকার

এলপিজি: কাগজে কলমে আমদানির জোয়ার, খুচরা বাজারে হাহাকার

ছবি এ আই
আমিরুল মোমেনিন, ঢাকা: রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার এবং তেজগাঁও এলাকার খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে এক অদ্ভুত চিত্র। সরকারি হিসাবে এলপিজি আমদানির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হলেও, সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের হিসেবে কোনো স্বস্তি নেই। সংকট আর আমদানির দোহাই দিয়ে বিপণনকারী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ ভোক্তা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে-কলমে আমদানি বাড়লেও কারসাজির গ্যাঁড়াকলে পড়ে ভোক্তা সাধারণের পকেট কাটছে একদল অসাধু চক্র। প্রশাসনের নিরবতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
 সরবরাহ বাড়লেও দামের লাগাম নেই
পরিসংখ্যান বলছে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এলপিজি আমদানি লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে জানুয়ারিতে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি হয়েছে, যা মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি। অথচ রাজধানীর বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৭৫০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে যা প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা পাইকারি পর্যায়েই বেশি দামে কিনছেন। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, এটি বিপণনকারী ও ডিলারদের একটি কৃত্রিম কারসাজি।
 আমদানির অজুহাত ও বিপণনকারীদের কৌশল
বিপণনকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগরের সংকটের দোহাই দিলেও এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (লোয়াব) বলছে সরবরাহ এখন পর্যাপ্ত। আমদানিকারকরা এলসি জটিলতার কথা বললেও বাস্তবে বন্দরে জাহাজের ভিড় বেড়েছে। তবুও “সাপ্লাই নেই” এমন গুজব ছড়িয়ে খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট জিইয়ে রাখা হচ্ছে।
অটোগ্যাস স্টেশনে দীর্ঘ লাইন ও হাহাকার
পরিবহন খাতেও অস্থিরতা চরমে। রাজধানীর প্রায় বহু অটোগ্যাস স্টেশন এখনো বন্ধ। যেগুলো  খোলা আছে, সেখানে গ্যাসের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। অটোগ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় স্টেশন মালিকরা ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন গণপরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
মনিটরিংহীন বাজারে জনদুর্ভোগ
রাজধানীর এক গৃহিণী জানান, “টিভিতে শুনি আমদানি বেড়েছে, কিন্তু দোকানে গেলে শুনি গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে ৩৫০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।”
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খুচরা বাজারে সরকারের কোনো শক্তিশালী মনিটরিং সেল না থাকায় বিপণনকারীরা এই সুযোগ নিচ্ছে। সামনে রমজান মাস, আর এই সময়ে এলপিজির চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।