Home First Lead নির্বাচনী ইশতেহারে কী চায় সংকটাপন্ন খাতুনগঞ্জ?

নির্বাচনী ইশতেহারে কী চায় সংকটাপন্ন খাতুনগঞ্জ?

হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লড়াই

মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: একসময় যাকে বলা হতো ‘বাংলাদেশের ওয়ালস্ট্রিট’, সেই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ আজ তার পুরনো জৌলুস হারিয়ে এক কঠিন সময় পার করছে। মসলা, ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির দেশের বৃহত্তম এই পাইকারি বাজারটি এখন নানামুখী প্রতিকূলতায় জর্জরিত। আজ পলোগ্রাউন্ডে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশাল জনসভাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল, তখন এই সংকট নিরসনে দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ঋণের বোঝা ও ‘অনিচ্ছাকৃত’ খেলাপি
খাতুনগঞ্জের অলিগলিতে এখন আর আগের মতো হাঁকডাক নেই। অসংখ্য ব্যবসায়ী বর্তমানে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা কেউ অর্থ পাচারকারী নন। বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতা, শুল্ক নীতি পরিবর্তন এবং ব্যাংকিং খাতের জটিলতার কারণে তারা আজ খেলাপি হতে বাধ্য হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা তো দেশ ছেড়ে পালাইনি। ব্যবসা করেই ঋণ শোধ করতে চাই। কিন্তু ব্যাংক আমাদের সুযোগ দিচ্ছে না। আমাদের মতো সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা দরকার।”
সংকটের মূলে বহুমাত্রিক কারণ
অনুসন্ধানে খাতুনগঞ্জের এই পতনের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে:
কর্পোরেট একচেটিয়া বাজার: বড় শিল্প গ্রুপগুলো সরাসরি আমদানির পর নিজস্ব চেইন তৈরি করায় খাতুনগঞ্জের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে।
ব্যাংকিং জটিলতা: উচ্চ সুদের হার এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধে অনমনীয় মনোভাব অনেক সৎ ব্যবসায়ীকেও খেলাপি করে তুলেছে।
অবকাঠামোগত অবক্ষয়: প্রকট যানজট, আধুনিক গুদামের অভাব এবং প্রযুক্তির ছোঁয়া না লাগায় খাতুনগঞ্জ তার সক্ষমতা হারিয়েছে।
নীতির সমন্বয়হীনতা: সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।
নির্বাচনী ইশতেহারে যা চান ব্যবসায়ীরা
আসন্ন নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ব্যবসায়ীদের ৫ দফা দাবি:
ক্রমিক
দাবির বিষয়
মূল লক্ষ্য
বিশেষ প্রণোদনা
সৎ ও প্রকৃত খেলাপিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পুনর্গঠন।
ব্যাংকিং সংস্কার
সুদের হার কমানো ও ঋণ প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজ করা।
মাস্টার প্ল্যান
খাতুনগঞ্জ পুনরুজ্জীবনে আধুনিক গুদাম ও যানজট নিরসন।
নীতিগত সুরক্ষা
বড় কর্পোরেটের সাথে প্রতিযোগিতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের টিকিয়ে রাখা।
পরিষেবা নিশ্চিতকরণ
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান।
অর্থনীতির প্রাণভোমরাকে বাঁচানোর ডাক
অর্থনীতিবিদদের মতে, খাতুনগঞ্জ কেবল একটি বাজার নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। এর সংকট মানেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ পলোগ্রাউন্ডের জনসভা থেকে শুরু করে সব দলের নির্বাচনী প্রচারণায় যদি এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্রটিকে বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি আসে, তবেই বন্দরনগরীর অর্থনীতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
দেশের বৃহত্তম এই বাণিজ্যিক হৃদপিণ্ডটি কি আবার সচল হবে? উত্তরটি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

 

এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com