Home আন্তর্জাতিক সিঙ্গাপুর বন্দরে তীব্র কনটেইনার জট: দক্ষিণ এশীয় শিপিং শিডিউলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

সিঙ্গাপুর বন্দরে তীব্র কনটেইনার জট: দক্ষিণ এশীয় শিপিং শিডিউলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিপিং হাব সিঙ্গাপুর বন্দরে কনটেইনার জট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আজ ৩ মে রবিবারের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় (Waiting Time) প্রায় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে বিকল্প রুট হিসেবে সিঙ্গাপুরে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গোর চাপ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে চট্টগ্রামে বিভিন্ন শিপিং সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জটের মূল কারণ ও বর্তমান চিত্র
শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে অনেক বড় জাহাজ তাদের নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে সিঙ্গাপুর বন্দরে আগেভাগেই পণ্য খালাস (Offloading) করছে। ফলে বন্দরের টার্মিনালগুলোতে ‘ভেসেল বাঞ্চিং’ বা একসাথে অনেক জাহাজের আগমন ঘটছে।
  • ইয়ার্ড ইউটিলাইজেশন: বর্তমানে সিঙ্গাপুর পোর্টের ইয়ার্ড ব্যবহারের হার ৮৫% ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
  • অপেক্ষমাণ সময়: গতকালের তুলনায় আজ জাহাজের নোঙর করার সময় ১০% বাড়ায় অনেক জাহাজকে গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
দক্ষিণ এশীয় ফিডার ভেসেলের ওপর প্রভাব
সিঙ্গাপুরে এই জটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ফিডার ভেসেলগুলোর ওপর। ১. শিডিউল বিপর্যয়: মাদার ভেসেল থেকে সময়মতো পণ্য সংগ্রহ করতে না পারায় ফিডার ভেসেলগুলোর শিডিউল ১৫-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পিছিয়ে যাচ্ছে। ২. পণ্য খালাসে বিলম্ব: সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দরগামী আমদানি পণ্যের লিড-টাইম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডিটেনশন চার্জ গুণতে হতে পারে। ৩. কানেক্টিং মিস: ছোট ফিডার জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় অনেক রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার মাদার ভেসেল ধরতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
পরিস্থিতি সামাল দিতে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (MPA) তাদের নতুন ‘তুয়াস পোর্ট’-এর অতিরিক্ত বার্থগুলো সচল করেছে। এছাড়া টার্মিনালগুলোর মধ্যে পণ্য স্থানান্তর দ্রুত করতে অটোমেটেড এবং স্বয়ংক্রিয় ফিডার ভেসেল প্রযুক্তির ট্রায়ালও জোরদার করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো সতর্ক করেছে যে, মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই জট অব্যাহত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর বন্দরে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে দক্ষিণ এশিয়ার সাপ্লাই চেইন এবং নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com