Home সারাদেশ বাসর রাতে ‘কনে বদল’! ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি না কি যৌতুকের নাটক?

বাসর রাতে ‘কনে বদল’! ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি না কি যৌতুকের নাটক?

ছবি: এ আই দিয়ে তৈরি
মো:সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও: একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। বিষয়টি কেবল একটি বিয়েতে সীমাবদ্ধ নেই, রূপ নিয়েছে সিনেমাটিক থ্রিলারে।
অভিযোগ উঠেছে বাসর রাতে ‘কনে বদলে’র! এই বিরল ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা ও পাল্টা মামলার জালে জড়িয়ে অবশেষে শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে বর রায়হান কবিরের।
রূপটান সরতেই আসল চেহারা ফাঁস?
ঘটনার সূত্রপাত পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায়। যুবক রায়হান কবিরের জন্য ঘটক মোতালেব পাত্রী দেখেন রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগস্টের এক রাতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। গভীর রাতে কনেকে নিয়ে রায়হান নিজ বাড়িতে ফেরেন।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে বাসর ঘরে। বরের অভিযোগ, বাসর রাতে কনের মুখ থেকে অতিরিক্ত মেকআপ বা রূপটান ধোয়ার পর তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। রায়হান দাবি করেন, বিয়ের আগে তাকে যে মেয়েকে দেখানো হয়েছিল, বাসর ঘরে থাকা কনে সেই মেয়ে নন। অর্থাৎ, বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই ঘটক ও মেয়ের পরিবার যোগসাজশ করে কনে বদলে দিয়েছে!
বাসর থেকে আদালত: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
এই ঘটনা জানাজানির পর পরদিন সকালেই কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয় স্থানীয় সালিশ-বৈঠক, কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি। উল্টো বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত।
মেয়ের বাবার দাবি: ২৭ আগস্ট মেয়ের বাবা জিয়ারুল হক ছেলেপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার দাবি, রায়হানরাই বাড়িতে এসে তার মেয়েকে দেখে পছন্দ করেছিলেন। এখন তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করছেন। যৌতুক না পেয়েই এই ‘কনে বদল’-এর নাটক সাজানো হয়েছে।
ছেলের পক্ষের পাল্টা মামলা: এর জবাবে ২ সেপ্টেম্বর বর রায়হান কবির উল্টো জিয়ারুল হক ও ঘটকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা ঠুকে দেন। তার মামার দাবি, পরিবারের চাপে তড়িঘড়ি বিয়ে করতে গিয়ে তারা বড় ধরনের জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।
আদালতের নির্দেশে শ্রীঘরে বর
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রায়হান কবির আদালতে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে রায়হান কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।
জেলাজুড়ে কৌতূহল: সত্য কোথায়?
ঘটক মোতালেব অবশ্য কোনো দায় নিতে নারাজ। তার সংক্ষিপ্ত উত্তর— “আমি কাউকে বদলাইনি।” অন্যদিকে, জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সদস্য ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কনে বদলের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং আদালতেই সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সত্য উন্মোচিত হবে।”
এটি কি আসলেও ঘটক আর মেয়ের পরিবারের সুনিপুণ প্রতারণা? নাকি যৌতুকের দাবি আদায়ে বরের সাজানো অজুহাত? এই অমীমাংসিত রহস্যের জট খুলতে এখন আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় পুরো জেলাবাসী।