Home সারাদেশ বন্ধু যখন ঘাতক: আধিপত্যের নেশায় সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের ‘খুন উৎসব’

বন্ধু যখন ঘাতক: আধিপত্যের নেশায় সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের ‘খুন উৎসব’

ছবি: এ আই

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: স্কুলের টিফিন পিরিয়ড কিংবা পাড়ার মোড়ের আড্ডা— যে বয়সে সেখানে শুধুই বন্ধুত্ব আর হাসি থাকার কথা, সিলেটের কিশোরদের হাতে এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে ধারালো ছুরি। বন্ধুত্বের জায়গা দখল করেছে ‘আধিপত্য’ আর ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ্ব। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঝরে গেছে দুটি তাজা প্রাণ। আহত হয়েছে আরও অনেকে। নগরবাসী বলছেন, রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’দের অদৃশ্য শেল্টার আর পুলিশের ধড়পাকড় এড়িয়ে স্থান পরিবর্তনের কৌশলে কিশোর গ্যাং এখন সিলেটের অন্যতম আতঙ্কের নাম।

১৫ দিনের ‘রক্তের হোলিখেলা’
সিলেটের অপরাধ জোন হিসেবে পরিচিত বালুচর এবং শান্ত এলাকা বাদামবাগিচা— কোথাও স্বস্তি নেই। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাদামবাগিচায় খুন হন স্কুলছাত্র শাহ মাহমুদ হাসান তপু। লোমহর্ষক বিষয় হলো, তপুর হত্যাকারী জাহিদ হাসান তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করতে হাত কাঁপেনি জাহিদের।

এর মাত্র কিছুদিন আগে, ১০ নভেম্বর বালুচরে নিজ দলের কর্মীর ছুরিকাঘাতেই প্রাণ হারান কিশোর গ্যাং লিডার মো. ফাহিম আহমদ। তার হত্যাকারী আলী হোসেন বাইল্যাও একই সার্কেলের আরেক গ্রুপের লিডার। স্থানীয়রা একে দেখছেন ‘খুনাখুনির মহোৎসব’ হিসেবে।

নেপথ্যে রাজনৈতিক ‘শেল্টার’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিশোরদের এই বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে শো-ডাউন দিতে এসব কিশোরদের ব্যবহার করেন কিছু ‘বড় ভাই’। তাদের প্রশ্রয়েই পাড়া-মহল্লায় গ্যাং কালচার গড়ে উঠেছে। পুলিশ যখনই কঠোর হয়, শেল্টার দাতারা তখন আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়েন।

বালুচর এলাকার বাসিন্দারা জানান, ফাহিম ও আরিফ খুনের পর পুলিশি তৎপরতায় মূল সড়ক ও অলিগলি কিছুটা ফাঁকা হলেও গ্যাং সদস্যরা এখন পার্শ্ববর্তী বাগান ও নির্জন এলাকায় নতুন আস্তানা গেড়েছে।

নয়াসড়কে অস্ত্রের ঝনঝনানি
খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র নয়াসড়কে ফের সংঘর্ষে জড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপ। স্কুলকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় তারা। এতে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়। কাজিটুলা ও জেলরোড এলাকার কিশোরদের এই সংঘর্ষ সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

পুলিশ কী বলছে?
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি, তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছেন। নগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম  বলেন, “নগরে কিশোর থাকবে, কিন্তু কোনো গ্যাং থাকবে না। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।” তবে পুলিশের এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন মাঠে কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। কারণ, অপরাধীরা গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও জড়াচ্ছে পুরনো দ্বন্দ্বে।

সিলেটের শান্তি ফেরাতে কেবল পুলিশি অ্যাকশন নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পারিবারিক সচেতনতা— এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

লাইক দিন 👍, শেয়ার করুন 🔁, এবং মন্তব্যে জানান আপনার মতামত!