Home Third Lead কৃষিজমি রক্ষা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: নতুন আইনের ব্যবচ্ছেদ

কৃষিজমি রক্ষা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: নতুন আইনের ব্যবচ্ছেদ

প্রথম পর্ব: কেন এই কঠোর আইন? প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

ফরিদুল আলম, ঢাকা: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং যত্রতত্র শিল্প-কারখানা স্থাপনের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছে।
আইনের মূল লক্ষ্য
এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের কৃষিজমি রক্ষা করা এবং ভূমির প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এর পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা। মূলত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্যের সংস্থান এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন এই আইনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?
১. কৃষিজমি সুরক্ষা: আইনের প্রথম অধ্যায়েই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে যে কোনো মূল্যে চাষযোগ্য জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ২. শ্রেণি পরিবর্তন রোধ: গত কয়েক দশকে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ঘরবাড়ি বা কলকারখানায় রূপান্তরিত হয়েছে। নতুন আইনে অনুমতি ছাড়া জমির এমন প্রকৃতি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩. পরিকল্পিত জোনিং: সরকার প্রথমবারের মতো ডিজিটাল জোনিং ম্যাপের মাধ্যমে সারা দেশের জমিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করবে। ফলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড কৃষিজমি নষ্ট না করে সুনির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
প্রয়োগের আওতা
আইনের ১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এটি রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হবে। এটি একটি যুগান্তকারী আইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কারণ এটি সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কৃষিজমি সুরক্ষায় প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করেছে।
পরবর্তী পর্বে আমরা আলোচনা করব আপনার এলাকার জমি কোন জোনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং সরকারি ‘ডিজিটাল ম্যাপিং’ ব্যবস্থাটি আসলে কীভাবে কাজ করবে।

আমাদের প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানান। নিয়মিত আপডেট পেতে ফলো করুন ও ভিজিট করুন: businesstoday24.com