Home Third Lead চীনা আধিপত্য ভেঙে বাংলাদেশে কেপসাইজ জাহাজ : স্ক্র্যাপ বাজারে হৈচৈ

চীনা আধিপত্য ভেঙে বাংলাদেশে কেপসাইজ জাহাজ : স্ক্র্যাপ বাজারে হৈচৈ

কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: স্ক্র্যাপ জাহাজ বাজারে বছরের সবচেয়ে বড় চমক! আন্তর্জাতিক বাজারের সমস্ত সমীকরণ পাল্টে দিয়ে বাংলাদেশের রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে যুক্ত হচ্ছে বিশালাকার কেপসাইজ জাহাজ ‘বেইহাই’ (Beihai)। বর্তমান বিশ্ববাজারে পুরনো কেপসাইজ জাহাজ ক্রয়ে যখন চীনা ক্রেতাদের একচেটিয়া আধিপত্য, তখন সেই জোয়ার রুখে দিয়ে জাহাজটি ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশের এক শিপব্রেকার। এই ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার শিপিং এবং স্টিল সেক্টরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
এক নজরে জাহাজটির পরিচয়:
  • নাম: বেইহাই (Beihai) [পূর্বনাম: K. Blue]
  • আইএমও নম্বর: ৯২২০২০১
  • ধরণ: কেপসাইজ বাল্ক ক্যারিয়ার
  • ডেডওয়েট টনেজ (DWT): ১,৭০,০০০ টনেরও বেশি
  • নির্মাণ: ২০০১, নামুরা শিপবিল্ডিং, জাপান।
রোমহর্ষক যাত্রা ও হাতবদল:
জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি এই জাহাজটির ইতিহাস যেন কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। ২০০১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এটি জাপানি পতাকায় বিশ্বজুড়ে রাজত্ব করেছে। এরপর ২০১৩ সালে মালিকানা বদলে এটি পানামার পতাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালায়।
দুবাই কানেকশন: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ২০২৪ সালের শেষের দিকে জাহাজটি স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এটি কিনে নেন দুবাইয়ের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। স্ক্র্যাপ করার কথা থাকলেও চতুর এই মালিক জাহাজটিকে দ্রুত না ভেঙে চাঙ্গা বাজারে আরও কয়েক মাস বাণিজ্যিক রুটে পরিচালনা করেন। অবশেষে সর্বোচ্চ দরের লড়াইয়ে চীনা ক্রেতাদের হারিয়ে চট্টগ্রামের এক শিপব্রেকার এই বিশাল জাহাজটি কিনে নিতে সক্ষম হন।
চীন থেকে চট্টগ্রাম: শেষ গন্তব্যের যাত্রা
চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থিং শিডিউল অনুযায়ী, জাহাজটির ‘লাস্ট পোর্ট কল’ ছিল চীনের ফাংচেং বন্দর। অর্থাৎ চীনের বন্দরে সর্বশেষ বাণিজ্যিক পণ্য খালাস করে এটি সরাসরি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে, গত ২৩ জানুয়ারি। পথে এটি দুবাইয়ের খোর ফাক্কান বন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি নিলেও এর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড।
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি কাস্টমস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় সাগরে ভাসছে।
কেন এটি চাঞ্চল্যকর?
শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, কেপসাইজ জাহাজগুলো সাধারণত বর্তমান সময়ে চীনা ইয়ার্ডগুলো ছাড়া অন্য কেউ কিনতে পারছিল না। ফলে বাংলাদেশের ইয়ার্ডগুলোতে বড় জাহাজের সংকট দেখা দিয়েছিল। ‘বেইহাই’ এর এই আগমন প্রমাণ করে যে, বিশ্ববাজারে আবারও বাংলাদেশি ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়ছে। এই জাহাজটি ভাঙা হলে দেশীয় স্টিল মিলগুলো বিপুল পরিমাণ উচ্চমানের স্ক্র্যাপ লোহা পাবে, যা নির্মাণ শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জোয়ারের সময় জাহাজটিকে সীতাকুণ্ডের নির্দিষ্ট রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ‘বিচিং’ করা হবে। এরপরই শুরু হবে বিশালাকার এই লৌহদানবকে কাটার মহাযজ্ঞ।

শিপিং খাতের এমন আরও চাঞ্চল্যকর খবর এবং নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।