আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রোববার হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে পাকিস্তানের করাচির রেলওয়ে গ্রাউন্ডে পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিল (PHC) এবং ড. প্রেম কুমার সিতল দাস মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ১৯তম গণবিবাহ অনুষ্ঠানে ৭৬টি হিন্দু দম্পতি তাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, এ বছর মোট ১২৬টি দম্পতির বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। তবে করাচিতে ৭৬টি বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে এবং বাকি ৫০টি দম্পতির বিয়ের ব্যবস্থা তাদের নিজস্ব শহর ও গ্রামগুলোতে করা হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত এবং সিন্ধুর অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে বর-কনে, তাদের বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন এবং অতিথিরা সুসজ্জিত এই অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন। সকল অতিথির পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়। বিয়ের শুভ লগ্ন বা ‘মুহূর্ত’ সম্পর্কে পুরোহিত মহারাজ জয় কুমার ত্রিবেদীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি হেসে উত্তর দেন, “সবাই যখন নিরাপদে এবং সুস্থভাবে এখানে পৌঁছাবেন, সেটিই হবে শুভ লগ্ন।”
মহারাজ ত্রিবেদী নিজে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রতিটি মণ্ডপের তদারকি করেন। তিনি জানান যে, ৭৫টি কেবিনে প্রতিটি মণ্ডপ সাজানো হয়েছে এবং মঞ্চে ৭৬তম দম্পতির জন্য তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি মণ্ডপে ঐতিহ্যবাহী অগ্নি, চাল, নারকেল ও পান পাতাসহ বিয়ের সব সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল এবং প্রতিটি কেবিনের প্রবেশপথে বর-কনের নাম লেখা ছিল।
করাচির সদর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা প্রিয়া এবং ইলেকট্রিশিয়ান সাগরকে ‘মডেল দম্পতি’ হিসেবে মঞ্চে সবার সামনে বিয়ে দেওয়া হয়। অন্য কেবিনগুলোতে থাকা দম্পতিরা বড় পর্দায় সেই রীতিনীতি দেখে নিজেদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানে করাচি এবং সিন্ধুর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা দম্পতিদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় দম্পতিদের তুলনায় দূর থেকে আসা দম্পতিরা ভ্রমণে কিছুটা ক্লান্ত ছিলেন এবং শীতের কারণে সাথে কম্বল ও লেপ নিয়ে এসেছিলেন। উমরকোট এবং সুক্কুর থেকে আসা দম্পতিরা বিশেষ নজর কাড়েন। বিশেষ করে সুক্কুর থেকে আসা কনে বেনজির এবং বর বাদশাহর নাম নিয়ে বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. রমেশ কুমার ভাঙ্কোয়ানি প্রতিটি দম্পতির সাথে দেখা করেন। সেখানে ২০০৮ সালে একই অনুষ্ঠানে বিয়ে করা এক নারী তার আত্মীয়র বিয়েতে অতিথি হিসেবে এসে ড. ভাঙ্কোওয়ানিকে পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেন।
ড. ভাঙ্কোয়ানি জানান, গত ১৯ বছরে তিনি প্রায় ১,৮৫০ জন কনেকে এভাবে আশীর্বাদ করেছেন। তিনি পাকিস্তান বাইতুল মাল (PBM), বিভিন্ন ব্যাংক এবং অন্যান্য দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাকিস্তান বাইতুল মালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন শাহীন খালিদ বাট বলেন, “একটি ভুল ধারণা আছে যে বাইতুল মাল কেবল মুসলমানদের সাহায্য করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, বাইতুল মালের সুবিধাভোগীরা যেকোনো ধর্মের হতে পারেন।”










