Home আন্তর্জাতিক চোরাপথে লাওস যাওয়ার পথে ধরা ১২ কেজি গণ্ডারের শিং

চোরাপথে লাওস যাওয়ার পথে ধরা ১২ কেজি গণ্ডারের শিং

গণ্ডারের শিং কালোবাজারে অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রগুলো দক্ষিণ এশিয়াকে তাদের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১২ কেজি ওজনের ৬টি গণ্ডারের শিং-সহ এক ভিয়েতনামি পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে থাই কর্তৃপক্ষ। কঙ্গো থেকে পাচার হওয়া এই নিষিদ্ধ পণ্যগুলো থাইল্যান্ড হয়ে লাওসে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

যেভাবে ধরা পড়ল পাচারকারী

সোমবার রাতে ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে ৩৬ বছর বয়সী ওই ভিয়েতনামি নাগরিক সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। তিনি কঙ্গোর লুবুম্বাশি থেকে ইথিওপিয়া হয়ে থাইল্যান্ড পৌঁছান। সেখান থেকে তার পরবর্তী গন্তব্য ছিল লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন।
বিমানবন্দরের শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা রুটিন মাফিক লাগেজ এক্স-রে করার সময় একটি ফোমের বাক্সে সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি টের পান। বাক্সটি খোলার পর পশুর চামড়া দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৬টি গণ্ডারের শিং উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ১১.৭৫ কেজি
কঠোর আইনি ব্যবস্থা
সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের বন্যপ্রাণী চেকপোস্টের প্রধান কোমক্রিত পিনসাই জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব বন্যপ্রাণীর অঙ্গ বহন বা আমদানির কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে প্রধানত তিনটি ধারায় মামলা করা হয়েছে:
বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন: অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণীর অংশ দেশে আনা।
শুল্ক আইন: নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টা।
পশু মহামারি আইন: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জৈব নিরাপত্তা লঙ্ঘন।
জব্দকৃত শিংগুলো বর্তমানে বন্যপ্রাণী ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে গণ্ডারের প্রজাতি শনাক্ত করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সুবর্ণভূমি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গণ্ডারের শিং কালোবাজারে অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রগুলো দক্ষিণ এশিয়াকে তাদের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। থাই কর্তৃপক্ষ এই চক্রের শেকড় সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।