ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৩
স্মৃতি হাসান
বৃষ্টির তোড়ে শরীর ভিজে একসার, আরিয়ান যখন সাগরের ডেরায় পৌঁছাল, তখন রাত প্রায় চারটে। সাগরের মেসটা মোহাম্মদপুরের এক ঘিঞ্জি এলাকায়, যেখানে সচরাচর বাইরের মানুষের নজর পড়ে না। সাগরের ঘরের দরজায় আরিয়ানের বিশেষ টোকা শুনে সে দ্রুত দরজা খুলে দিল।
সাগরের চোখে চশমা, ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। আরিয়ানকে এই অবস্থায় দেখে সে কিছুটা হকচকিয়ে গেল, কিন্তু আরিয়ানের হাতের সেই নীল ডায়েরিটা দেখামাত্রই তার হ্যাকার সত্তা সজাগ হয়ে উঠল।
“আরিয়ান, তুই কী বিপদে পড়েছিস সেটা কি আন্দাজ করতে পারছিস?” সাগর ড্রয়ার থেকে একটি ড্রাই হার্ডড্রাইভ বের করতে করতে বলল। আরিয়ান কাঁপতে কাঁপতে ডায়েরিটা টেবিলের ওপর রাখল। “আমি শুধু কিছু নথির খোঁজে গিয়েছিলাম রে, কিন্তু এই ডায়েরিটা পাওয়ার পর থেকেই ওরা আমাকে তাড়া করছে। আর দেখ এই চাবিটা—এটাও আমি ওই গুদামের এক কোণে পেয়েছি।” আরিয়ান পকেট থেকে সেই ছোট পিতলের চাবিটা বের করল, যার গায়েও সেই রহস্যময় ‘কাটা কম্পাস’-এর লোগো খোদাই করা।
সাগর ডায়েরির সেই ভৌগোলিক স্থানাঙ্কগুলো তার স্পেশাল সফটওয়্যারে ইনপুট দিতেই মনিটরগুলো পাগলের মতো কাঁপতে শুরু করল। ম্যাপের ওপর একটি লাল বিন্দু ফুটে উঠল যা মোংলা বন্দরের গভীর পশুর নদীর মোহনার এক জনমানবহীন খাড়িকে নির্দেশ করছে।
সাগর স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “এটা কোনো সাধারণ জায়গা নয় আরিয়ান। ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের একটি মালবাহী জাহাজ ‘এমভি ফিনিক্স’ ঠিক এই জায়গাতেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিল। সরকারি নথিতে বলা আছে জাহাজটি ডুবে গেছে, কিন্তু এই ডায়েরি বলছে অন্য কথা।”
সাগর ডায়েরির শেষ পাতায় একটি বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে করতেই অদৃশ্য কালিতে কিছু লেখা ফুটে উঠল। সেখানে লেখা: “ফিনিক্সের পুনর্জন্ম হবে তখনই, যখন তিনটি চাবি এক হবে।” আরিয়ান নিজের হাতের চাবিটার দিকে তাকাল। তার মানে আরও দুটো চাবি রয়ে গেছে! হঠাৎ সাগরের সিকিউরিটি অ্যালার্ম বিউগল বাজিয়ে উঠল। সাগরের মনিটরের এক কোণে দেখা গেল, মেসের নিচের গেটে সেই কালো এসইউভি গাড়িটি এসে থামছে।
সাগর আতঙ্কিত গলায় বলল, “ওরা আমার জ্যামার বাইপাস করে ফেলেছে! ওরা আমাদের ডিজিটাল সিগন্যাল ট্র্যাক করেছে। আরিয়ান, আমাদের এখনই বেরোতে হবে!”
সাগর দ্রুত তার ল্যাপটপ আর ড্রোনটা ব্যাগে ভরে নিল। আরিয়ান ডায়েরি আর চাবিটা শক্ত করে চেপে ধরল। তারা জানত না, এই চাবি আর ডায়েরি তাদের কেবল মোংলায় নিয়ে যাচ্ছে না, বরং নিয়ে যাচ্ছে এমন এক সত্যের সামনে যা বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক মানচিত্র পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
পেছনের দেয়াল বেয়ে নিচে নামার সময় আরিয়ান দেখল, সাগরের ঘরের দরজা ভেঙে সেই রেইনকোট পরা লোকগুলো ভেতরে ঢুকছে। তাদের হাতে থাকা লেজার লাইটগুলো অন্ধকারের বুক চিরে আরিয়ানকে খুঁজছে।
চতুর্থ পর্বে কি আরিয়ান এবং সাগর মোংলায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে, নাকি মাঝপথেই কোনো বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হবে? আপনার মতামত জানান।
পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে businesstoday24.com অনুসরণ করুন। মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন।










