Home Third Lead গুপ্তচরের ডায়েরি: ভস্মীভূত স্মৃতি

গুপ্তচরের ডায়েরি: ভস্মীভূত স্মৃতি

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-শেষ

স্মৃতি হাসান 

পশুর নদীর মোহনায় তখন ভোরের আলো পুরোপুরি ফুটে উঠেছে। আগুনের লেলিহান শিখায় ধসে পড়া বাতিঘরটির শেষ অংশটুকুও নোনা জলের গভীরে তলিয়ে গেছে। আরিয়ান, আরিফ, সাগর আর বকিব যখন তীরের বালুচরে এসে পৌঁছাল, তখন তাদের শরীর অবসাদে ভেঙে পড়ছে। কারো মুখে কোনো কথা নেই—কেবল বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর নদীর ঢেউয়ের গর্জন শোনা যাচ্ছে।
আরিফ বালুর ওপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার চোখের সেই উন্মাদনা আর লোভ এখন কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। সে তার নিজের ভাইয়ের দিকে তাকাতে পারছে না, যে তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে এনেছে। আরিয়ান তার জ্যাকেটের ভেতর থেকে সেই নীল ডায়েরিটি বের করল। ডায়েরিটি ভেজেনি, কিন্তু এর পাতাগুলো এখন ধূসর হয়ে গেছে।
“ভাইয়া, এই ডায়েরিটাই আমাদের বংশের অভিশাপ ছিল,” আরিয়ান শান্ত গলায় বলল। সে তীরের কাছে জ্বেলে রাখা ছোট আগুনটির দিকে এগিয়ে গেল। আরিফ আর্তনাদ করে উঠল, “আরিয়ান! করো না! ওটার ভেতরে বাবার হাতের লেখা আছে, আমাদের ইতিহাসের শেষ চিহ্ন ওটা!”
আরিয়ান আরিফের দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসল। “বাবার হাতের লেখা আমাদের মনে আছে ভাইয়া, কিন্তু এই ডায়েরির কোডগুলো যদি জ্যান্ত থাকে, তবে আবার কোনো ‘কাটা কম্পাস’ গ্রুপ বা অন্য কোনো শক্তি আমাদের পিছু নেবে। শান্তি পেতে হলে আমাদের এই চেইন ভাঙতে হবে।”
আরিয়ান ডায়েরিটি আগুনের শিখার ওপর ছেড়ে দিল। দাউদাউ করে জ্বলে উঠল চামড়ার মলাটটি। ১৯৪৮ সালের সেই ছবি, সেই রহস্যময় স্থানাঙ্ক আর ‘প্রজেক্ট ফিনিক্স’—সবকিছু চোখের সামনে ছাই হয়ে বাতাসে মিশে গেল।
সাগর আর বকিব কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। সাগর এগিয়ে এসে আরিয়ানের কাঁধে হাত রাখল। “সব শেষ হলো বন্ধু। কিন্তু আরিফ সাহেবের কী হবে?” আরিয়ান তার ভাইয়ের দিকে তাকাল। আরিফ এখন আর কোনো মাস্টারমাইন্ড নয়, সে কেবল এক পথভ্রষ্ট মানুষ।
আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আইন তার বিচার করবে। তবে তার আগে তাকে বাবার কবরের সামনে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।”
কয়েক ঘণ্টা পর একটি কোস্টগার্ডের নৌকা তাদের উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এল। আরিয়ান নদীর বুক চিরে ফিরে যাওয়ার সময় দেখল, যেখানে বাতিঘরটি ছিল, সেখানে এখন কেবল শান্ত নীল জলরাশি। সে জানত, দুনিয়ার মানুষ কোনোদিন জানবে না এক সাংবাদিক আর তার হ্যাকার বন্ধু কীভাবে পৃথিবীকে এক প্রলয় থেকে বাঁচিয়েছে।
আরিয়ানের পকেটে হাত দিতেই সে অনুভব করল—সেই প্রথম চাবিটি, যা সে কোনোভাবে পকেটে রেখে দিয়েছিল। সে চাবিটি বের করে নদীর গভীর জলে ছুড়ে ফেলে দিল। অতীতের সব জঞ্জাল এখন সাগরের তলায়। ভোরের নির্মল বাতাস গায়ে মেখে আরিয়ান ফিসফিস করে বলল, “বিদায় বাবা, বিদায় ফিনিক্স।”

এই সিরিজের সাথে থাকার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। রহস্য আর রোমাঞ্চের এই সফর এখানেই শেষ হলো। পরবর্তী নতুন কোনো গল্পের সাথে আবার দেখা হবে।
গল্পটি আপনার কেমন লেগেছে এবং পরবর্তী সিরিজে আপনি কী ধরনের কাহিনী পড়তে চান, তা জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন।