Home অন্যান্য গুপ্তচরের ডায়েরি: কুয়াশার দ্বীপ ও রক্তের টান

গুপ্তচরের ডায়েরি: কুয়াশার দ্বীপ ও রক্তের টান

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৭

স্মৃতি হাসান

ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আরিয়ান যখন পানির নিচ দিয়ে কয়েকশ গজ দূরে সরে এল, তার ফুসফুস তখন অক্সিজেনের অভাবে ফেটে যাওয়ার উপক্রম। পানির ওপরে মাথা তুলতেই সে দেখল বকিবের নৌকাটি দাউদাউ করে জ্বলছে। সাগর আর বকিবের কোনো চিহ্ন নেই।
আরিয়ানের বুকটা হাহাকার করে উঠল—তার জেদের কারণে কি তবে তার বন্ধু আর সেই নিরীহ মাঝি প্রাণ হারাল? কিন্তু শোক করার সময় এখন নেই, কারণ আরিফের স্পিডবোটের সার্চলাইটগুলো এখনো পাগলের মতো পানির ওপর ঘুরছে।
আরিয়ান তার সর্বশক্তি দিয়ে সাঁতরে তীরের দিকে এগুলো। আধঘণ্টা পর সে যখন বালুকাময় তটে আছড়ে পড়ল, তার শরীর তখন বরফের মতো ঠান্ডা। ডায়েরিটা ভেজেনি, কিন্তু তার ভেতরকার সেই ‘কাটা কম্পাস’ লোগোটি এখন মৃদু স্পন্দিত হচ্ছে।
আরিয়ান ডায়েরি আর সেই বক্সটি খুলে দ্বিতীয় চাবিটি বের করল। এটি প্রথম চাবির চেয়ে কিছুটা বড় এবং এর মাথায় একটি সিলভারের প্রলেপ দেওয়া। চাবিটি হাতে নিতেই আরিয়ানের কানে আরিফের সেই বরফশীতল কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হতে লাগল— “এটা দিয়ে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
আরিয়ান বালুর ওপর বসে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। হঠাৎ তার নজরে পড়ল দ্বীপের মাঝখানে এক পুরনো বাতিঘর। এটি ম্যাপে ছিল না। সে বুঝতে পারল, সে এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছে যা বাইরের জগতের কাছে অদৃশ্য। ঠিক তখনই তার পকেটে থাকা সাগরের সেই ছোট ড্রোনটির কন্ট্রোলার ভাইব্রেট করে উঠল।
স্ক্রিনে সাগরের একটি কোডেড মেসেজ ভেসে এল— “আমি আর বকিব বেঁচে আছি, ওরা আমাদের জিম্মি করেছে। বাতিঘরের দিকে যেও না আরিয়ান, ওটা একটা ফাঁদ!”
আরিয়ান স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার সামনে কুয়াশা ঘেরা বাতিঘর, আর পেছনে তার নিজের ভাই। সে ডায়েরির সেই ১৯৪৮ সালের ছবিটা আবার বের করল। এবার সে ছবির এক কোণে লক্ষ্য করল একটি ছোট লেখা— ‘দ্য থার্ড কি ইজ উইথিন দ্য ব্লাড’।
আরিয়ান নিজের হাতের কাটা দাগটার দিকে তাকাল, যা পানির নিচে লড়াইয়ের সময় হয়েছিল। রক্ত ফোঁটা ফোঁটা হয়ে ডায়েরির ওপর পড়তেই সেখানে একটি নতুন ম্যাপ ফুটে উঠল। আরিয়ান বুঝতে পারল, তৃতীয় চাবিটি কোনো জড় বস্তু নয়, সেটি একটি জ্যান্ত কোড যা কেবল তাদের বংশের কারো রক্তেই সক্রিয় হয়।
হঠাৎ বাতিঘরের ওপর থেকে একটি সার্চলাইট সরাসরি আরিয়ানের ওপর এসে পড়ল। আরিফ স্পিডবোট নিয়ে তীরের একদম কাছে চলে এসেছে। সে মেগাফোন ছাড়াই চিৎকার করে বলল, “আরিয়ান, তুমি কি জানো বাবা কেন নিখোঁজ হয়েছিলেন? তিনি এই প্রজেক্ট ফিনিক্সের অংশ ছিলেন।
তিনি চেয়েছিলেন এটা ধ্বংস করতে, কিন্তু আমি চাই এটা ব্যবহার করতে। তুমি যদি চাবি দুটো না দাও, তবে সাগর আর বকিবকে আমি এখনই শেষ করে দেব!” আরিয়ান এখন এক চরম সংকটে—একদিকে তার ভাইয়ের দেশদ্রোহী পরিকল্পনা, অন্যদিকে তার প্রিয় বন্ধুদের জীবন।

পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে ও আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন। মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন।
অষ্টম পর্বে কি আরিয়ান তার ভাইয়ের সাথে কোনো আপস করবে, নাকি বাতিঘরের ভেতর লুকিয়ে থাকা কোনো পুরনো রহস্য ব্যবহার করে পাল্টা আক্রমণ করবে? আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিন।