এক দেশে ছিল এক মহা কৃপণ জমিদার। তিনি সবসময় কম মূল্যে দামী জিনিস পাওয়ার ফন্দি আঁটতেন। একদিন এক চতুর বিদেশি বণিক তার কাছে এসে একটি বড় আকৃতির সাদা পাথর দেখিয়ে বলল, এটি আসলে বিরল প্রজাতির একটি ‘ঘোড়ার ডিম’। বণিক দাবি করল, এই ডিম ফুটে যে ঘোড়া বের হবে, তা হবে বাতাসের চেয়েও দ্রুতগামী। জমিদার লোভে পড়ে চড়া দামে সেই পাথরটি কিনে নিলেন।
বণিক বিদায় হওয়ার পর জমিদার অধীর আগ্রহে ডিমটি নিয়ে প্রাসাদের ছাদে গেলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত তার হাত থেকে পাথরটি নিচে একটি ঝোপের ওপর পড়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঝোপের আড়াল থেকে একটি ভীত খরগোশ প্রাণভয়ে দৌড়ে পালাল। জমিদার মনে করলেন, ডিম ফুটে ঘোড়ার বাচ্চা বের হয়ে দৌড় দিয়েছে। তিনি চিৎকার করে বলতে লাগলেন, “আহা! বাচ্চাটা কত ছোট, তাতেই যদি এত জোরে দৌড়ায়, তবে বড় হলে কত না দ্রুত হবে!”
আসলে ঘোড়া স্তন্যপায়ী প্রাণী হওয়ায় ডিম পাড়ে না, কিন্তু জমিদারের বোকামি ও লোভ তাকে এক অবাস্তব জিনিসের পেছনে ছুটিয়েছিল। এই হাস্যকর ঘটনা থেকেই কোনো অস্তিত্বহীন বা অসম্ভব বস্তুকে বোঝাতে ‘ঘোড়ার ডিম’ প্রবাদটি চালু হয়। এটি আমাদের শেখায় যে, বিচার-বুদ্ধি না খাটিয়ে অবাস্তব কিছুর পেছনে ছোটা কেবল বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
আমাদের প্রতিটি কনটেনট নিয়মিত পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।