কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:
চায়ের ইতিহাস তার স্বাদের মতোই গভীর এবং বৈচিত্র্যময়। কয়েক হাজার বছর আগে চীনের এক সম্রাটের হাত ধরে যে পানীয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা বিশ্বের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বিশ্বে প্রায় ৫০০ কোটি কাপ চা পান করা হয়, যা একে পানির পরেই পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়তে পরিণত করেছে।
সেই ঐতিহাসিক আবিষ্কার
কিংবদন্তি অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩৭ অব্দে চীনা সম্রাট শেন নুং (Shen Nung) ভুলবশত চা আবিষ্কার করেন। তিনি যখন খোলা মাঠে পানি ফুটাচ্ছিলেন, তখন ওপর থেকে একটি বুনো চায়ের পাতা গরম পানির পাত্রে এসে পড়ে। পানির রঙ পরিবর্তন দেখে কৌতূহলী সম্রাট সেই পানি পান করেন এবং এর সতেজতা ও স্বাদে মুগ্ধ হন। এভাবেই চায়ের আদি যাত্রা শুরু।
বিশ্বজুড়ে চায়ের আভিজাত্য ও সংস্কৃতি
চা এখন কেবল একটি পানীয় নয়, এটি আতিথেয়তার প্রতীক।
যুক্তরাজ্য: এখানে ‘আফটারনুন টি’ একটি আভিজাত্যপূর্ণ সামাজিক রীতি।
জাপান: জাপানিজ ‘টি সেরেমনি’ বা চা উৎসব একটি আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ।
মরক্কো ও মধ্যপ্রাচ্য: মিন্ট টি বা পুদিনা চা এখানে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
বাংলাদেশ ও ভারত: এ অঞ্চলে রাস্তার ধারের ‘টঙের দোকান’ থেকে শুরু করে ড্রয়িং রুম পর্যন্ত চা আড্ডা ও আপ্যায়নের মূল অনুষঙ্গ।
চায়ের বৈশ্বিক বাজার ও শীর্ষ উৎপাদনকারীবর্তমানে চা একটি বিশাল বাণিজ্যিক খাত। জলবায়ু এবং মাটির গুনাগুণের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশ চা উৎপাদনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
দেশ |
বিশেষত্ব |
চীন |
বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪০% এর বেশি যোগান দেয়। গ্রিন টি এবং ওলং টি-তে তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। |
ভারত |
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। আসাম এবং দার্জিলিংয়ের চায়ের সুগন্ধ জগতখ্যাত। |
কেনিয়া |
কালো চা (Black Tea) রপ্তানিতে কেনিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। |
শ্রীলঙ্কা |
তাদের ‘সিলন টি’ বিশ্বজুড়ে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। |
ভিয়েতনাম ও তুরস্ক |
এই দেশগুলো দ্রুত তাদের উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। |










