বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি চা শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় নিলামে চায়ের সন্তোষজনক, কিন্তু ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের মূল্য এবং আনুষঙ্গিক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি বাগান মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক বাগান এখন ব্যাংক ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, যা সামগ্রিক শিল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
উৎপাদন খরচের লাগামহীন দৌড়
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চা বাগানের ওপর। চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের ফ্যাক্টরিগুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচ আগের তুলনায় প্রায় ৩০% থেকে ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে বাগান পরিচালনা করা এখন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
নিলামে দাম বাড়লেও মুনাফা অধরা
চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্রে চায়ের মান ভেদে ভালো দাম পাওয়া গেলেও তা বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না। মালিকপক্ষ বলছে, এক কেজি চা উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, নিলামে প্রাপ্ত বিক্রয়মূল্য তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে কাগজ-কলমে বিক্রি বাড়লেও দিনশেষে লাভের খাতা শূন্যই থাকছে।
ব্যাংক ঋণের চাপে দিশেহারা বাগান মালিকরা
আর্থিক সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে। বাগান পরিচালনার জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অনেক ছোট ও মাঝারি বাগান মালিকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদের হার এবং ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের জটিলতায় অনেক বাগান খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে নতুন করে বিনিয়োগ বা বাগান আধুনিকায়নের পথও রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চা শিল্পকে বাঁচাতে হলে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। জ্বালানি তেলে বিশেষ ভর্তুকি প্রদান, ঋণের সুদ মওকুফ বা সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ব্যবস্থা করা না হলে অনেক বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হারাবে হাজার হাজার শ্রমিক, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি বড় খাত হুমকির মুখে পড়বে।