Home সারাদেশ চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সিন্থেটিক টিকার সফল পরীক্ষা

চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সিন্থেটিক টিকার সফল পরীক্ষা

হেলথ ডেস্ক:
 মরণঘাতী না হলেও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের তীব্র যন্ত্রণা এবং দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তির লক্ষ্যে একটি বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি নতুন ধরনের টিকার সফল প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এই টিকাটি প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অত্যাধুনিক সিন্থেটিক বায়োপলিমার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
উদ্ভাবনের নেপথ্যে: সিন্থেটিক বায়োপলিমার প্রযুক্তি
সাধারণত টিকা তৈরিতে নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। তবে গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির গবেষক দলটি সিন্থেটিক বায়োপলিমার কণা ব্যবহার করেছেন। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো মূলত ভাইরাসের গঠনকে নকল করে, যা মানবদেহে প্রবেশ করলে শরীর একে আসল ভাইরাস মনে করে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Antibody) তৈরি করে।
এই প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা হলো এটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং এটি থেকে সংক্রমিত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।
গবেষণার ফলাফল ও কার্যকারিতা
প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যে:
শক্তিশালী ইমিউন রেসপন্স: এই টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত: পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।
উৎপাদন সহজলভ্যতা: বায়োপলিমার ভিত্তিক হওয়ায় এই টিকা সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সহজ এবং এর উৎপাদন খরচ প্রচলিত টিকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
চিকুনগুনিয়ার বৈশ্বিক প্রভাব
চিকুনগুনিয়া একটি মশা বাহিত রোগ (Aedes aegypti এবং Aedes albopictus), যা মূলত এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এটি মৃত্যুহারের দিক থেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ, তবে আক্রান্ত রোগীরা দীর্ঘ কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর ধরে জয়েন্টে বা গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথায় ভোগেন, যা তাদের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
গবেষণা দলের প্রধান জানিয়েছেন, “এই সিন্থেটিক বায়োপলিমার প্রযুক্তি কেবল চিকুনগুনিয়া নয়, বরং অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের টিকা তৈরির ক্ষেত্রেও বিপ্লব ঘটাতে পারে। এটি বিশেষভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য উপযোগী হবে যেখানে টিকার নিরবচ্ছিন্ন কোল্ড চেইন বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রাথমিক ট্রায়ালে সফলতার পর গবেষকরা এখন বৃহত্তর পরিসরে তৃতীয় পর্যায়ের (Phase III) ট্রায়ালের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এই টিকাটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।